kalerkantho


রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়ম

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো নিয়ে এর আগেও অনেক তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে। মাঝখানে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নেওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিল মালয়েশিয়া। এই বন্ধ হওয়ার কারণ ছিল বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর নানা ধরনের অসততা, দুর্নীতি এবং শ্রমিকদের কাছ থেকে অনেক বেশি অর্থ নেওয়া। এরপর অনেক দিন ধরে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলে। সিদ্ধান্ত হয় সরকার থেকে সরকার অর্থাৎ জিটুজি পর্যায়ে শ্রমিক নেওয়ার। সেভাবেই কয়েক বছর ধরে চলছিল মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানো। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, কিছু রিক্রুটিং এজেন্সি আবারও নিয়ম ভেঙে শ্রমিকদের কাছ থেকে কয়েক গুণ বেশি অর্থ আদায় করছে এবং অতিরিক্ত অর্থের একটি অংশ মালয়েশিয়ার শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষ হিসেবে দিয়েছে। বিষয়টি মালয়েশিয়ার বর্তমান সরকারের নজরে এলে তারা প্রথমে অভিযুক্ত ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো নিষিদ্ধ করে এবং গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে জিটুজি পর্যায়ে শ্রমিক নেওয়াই নিষিদ্ধ করে। এর ফলে মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াই আবার হুমকির মুখে পড়েছে। কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সেই রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।

রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর এসব দুর্নাম নতুন নয়। কখনো কখনো মানবপাচারের অভিযোগও উঠেছে কোনো কোনো এজেন্সির বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে শুধু মালয়েশিয়া নয়, আরো অনেক দেশেই বাংলাদেশি শ্রমিক নেওয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এসব অভিযোগ যথাযথ তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃষ্টান্ত খুবই কম। আর সে কারণেই তারা দুর্নীতিতে এতটা বেপরোয়া। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় একজন শ্রমিক পাঠাতে সরকারিভাবে ব্যয় নির্ধারিত আছে ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা। অভিযোগ আছে, এসব রিক্রুটিং এজেন্সি কর্মীপ্রতি তিন থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছে। এভাবে কয়েক বছরে তারা সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত নিয়েছে। গণমাধ্যমেও এসব অনিয়মের অনেক খবর প্রকাশিত হয়েছে। আশার কথা, দেরিতে হলেও শেষ পর্যন্ত দুদক অভিযোগগুলো আমলে নিয়েছে। জানা যায়, দুদক প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত তদন্ত শেষ করে অভিযুক্ত এজেন্সি মালিকদের বিচারের মুখোমুখি করা। জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান এসব অনিয়ম শুধু বিদেশগামী কর্মীদেরই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, দেশের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমরা আশা করি, সরকার রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ম-নীতির মধ্যে আনতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেবে।



মন্তব্য