kalerkantho


পরিদর্শনের ‘বিশেষ’ আয়োজন

অনৈতিক সুবিধা নেওয়া বন্ধ হোক

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বছর কয়েক আগে রাজধানীর জাতীয় কিডনি ও ইউরোলজি হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বিশেষায়িত ডায়ালিসিস সেন্টার স্থাপন করা হয়। কিডনিবিষয়ক রোগের উত্তম চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্যই এগুলো স্থাপন করা হয়। কার্যক্রম যাতে সঠিকভাবে চলে তার জন্য পরিবীক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প-চুক্তির শর্ত অনুসারে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারির ভিত্তিতে স্থাপিত এ দুটি সেন্টার পরিদর্শন করবে একটি ‘স্বতন্ত্র প্যানেল’। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন কোনো পরিচালক বা অন্য কোনো কর্মকর্তা এ প্যানেলের সদস্য হতে পারবেন না। ফলে এ বাবদ আলাদা সম্মানী পাওয়ার সুযোগও তাঁদের নেই। কিন্তু এ শর্ত ভেঙে আর্থিক সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন একজন পরিচালক।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) অধ্যাপক ড. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন দুটি সেন্টার তিন বছরের জন্য পরিদর্শনের কর্মসূচি ও সম্মানী ভাতা ঠিক করেছেন। প্রতিবার রাজধানীর মহাখালী থেকে শেরেবাংলানগরে গিয়ে কিডনি ও ইউরোলজি হাসপাতাল পরিদর্শনের জন্য তিনি নেবেন ১৩ হাজার টাকা। তিন বছরে মোট ৩৮ বার পরিদর্শন করে তিনি নেবেন চার লাখ ৯৪ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন বাবদ তিন বছরে তিনি নেবেন আরো চার লাখ ৯৪ হাজার টাকা। তিন বছরে শুধু পরিদর্শন বাবদ ৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা সম্মানী পাবেন তিনি। যাতায়াত বা অন্য খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত নয়।

ভাতার পরিমাণ ঠিক করে আদেশপত্রে সই করেছেন পরিচালক। অধীনস্থ একজন উপপরিচালকের জন্যও ভাতা ঠিক করে দিয়েছেন তিনি—প্রতি পরিদর্শনে ১০ হাজার টাকা। উপপরিচালকও তিন বছর ধরে ভাতা পাবেন। আরো কয়েকজন চিকিৎসককে সম্মানী পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। তাঁদের চারজন ওই দুটি হাসপাতালেই কর্মরত। তাঁরা নিজ কক্ষ থেকে ভবনের আরেক কক্ষে ওই সেন্টারে গিয়ে প্রতিবার ১০ হাজার টাকা করে পাবেন। তিন বছরে পরিদর্শন ফি বাবদ মোট ৩৭ লাখ ১৮ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিচালক ড. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন সেন্টার পরিদর্শন কার্যক্রমের জন্য দুটি ‘স্বতন্ত্র প্যানেল’ গঠন করেছেন। দুটিরই চেয়ারম্যান তিনি; এটি শর্তবিরোধী কাজ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) হিসেবে যেকোনো সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করতে পারেন তিনি। কিন্তু ‘স্বতন্ত্র প্যানেল’-এর সদস্য হতে পারেন না, সুবিধাও নিতে পারেন না। আগের প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পর তিনি এ সুযোগ নেন।

সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কিভাবে এবং কী পরিমাণে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন এ ঘটনা তার প্রমাণ। তাঁদের নীতিহীন কর্মকাণ্ড সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। এ প্রবণতার অবসান ঘটানো জরুরি হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে আমরা আশা করি।



মন্তব্য