kalerkantho


খানা জরিপে ভয়াবহ চিত্র

সেবা খাতের দুর্নীতি দূর করুন

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



টিআইবি প্রতিবছর দেশের দুর্নীতিচিত্র নিয়ে একাধিক জরিপ পরিচালনা করে থাকে। এসব জরিপে যেসব তথ্য তুলে ধরা হয়, তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কও আছে। দেশের আটটি বিভাগের ১৬টি স্তরে দৈবচয়নের ভিত্তিতে এক হাজার ৩২০টি গ্রাম বা মহল্লা নির্বাচন করে সেখান থেকে ১৫ হাজার ৫৮১টি খানা নির্বাচন করে জরিপ পরিচালনা করা হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চল থেকে নির্বাচিত খানার সংখ্যা মাত্র পাঁচ হাজার ৪২৬টি। বাকি খানা বাছাই করা হয়েছে গ্রামাঞ্চল থেকে। কাজেই সুনির্দিষ্ট বা স্বল্পসংখ্যক মানুষ যে জরিপে অংশ নেয়, সেই জরিপে সারা দেশের চিত্র কতটুকু প্রতিফলিত হয় বা হচ্ছে—এ নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। কিন্তু দেশ থেকে দুর্নীতি যে নির্মূল করা যায়নি, এ বিষয়ে কারো দ্বিমত থাকার কথা নয়। সম্প্রতি দেশের সেবা খাতে ২০১৭ সালের একটি চিত্র তুলে ধরেছে টিআইবি। প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৭ সালের খানা জরিপে দুর্নীতির শিকার খানার হার কিছুটা কমলেও ঘুষ আদায়ের হার বেড়েছে। স্বল্পসংখ্যক মানুষের ওপর জরিপ পরিচালিত হলেও যে তথ্যটি উঠে আসছে, তা আমাদের জন্য মোটেও সম্মানের নয়। ঘুষ-দুর্নীতির যেকোনো চিত্রই জাতি হিসেবে আমাদের মর্যাদা নষ্ট করে। টিআইবির জরিপে দেখা যাচ্ছে, দেশের নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়েছে। তবে বয়সে তরুণ এমন সেবাগ্রহীতাদের ঘুষ ও দুর্নীতির শিকার হওয়ার সংখ্যা কম। টিআইবির এই জরিপে দেখা যাচ্ছে ৬৬.৫ শতাংশ খানা দুর্নীতির শিকার হয়, খানাপ্রতি ঘুষের পরিমাণ পাঁচ হাজার ৯৩০ টাকা, ঘুষ না দিলে সেবা পাওয়া যায় না। টিআইবির এই জরিপে বেরিয়ে এসেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত খাত। আর এটাই হচ্ছে আশঙ্কার বিষয়। দেশের মানুষ যেকোনো বিপদে-আপদে সবার আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শরণাপন্ন হতে চায়। সেই প্রতিষ্ঠানটিই যদি সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত হয়ে থাকে, এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের বিষয় আর কী হতে পারে?

টিআইবির এই জরিপ নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু দুর্নীতি যে দেশের বিভিন্ন স্তরে বিস্তৃত হয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। গণমাধ্যমে প্রতিদিনই দুর্নীতির খবর আসছে। আর সে কারণেই দুর্নীতিসংক্রান্ত যেকোনো তথ্য বিশেষভাবে বিবেচনায় নেওয়া দরকার। টিআইবির সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে, বিগত বছরগুলোর তুলনায় দুর্নীতির হার অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু তাতে উল্লসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। সর্বস্তরে বিশেষ করে সেবা খাতের দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে জাতি হিসেবে আমরা সব সময় পিছিয়ে থাকব।



মন্তব্য