kalerkantho


বিশৃঙ্খল সড়ক ব্যবস্থাপনা

আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার বেশ কিছু ব্যবস্থা নিয়েছিল। শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিয়ে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। ট্রাফিক সপ্তাহ পালন করে বিপুল অঙ্কের জরিমানা আদায় করা হয়েছে। তার পরও গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরেনি। ফিটনেসবিহীন যানবাহন আবার দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশের সড়ক-মহাসড়ক। পরিবহন শ্রমিকদের দাপট বেড়েছে। বাসের ভাড়া নিয়ে বিতণ্ডার জের ধরে গত সোমবার চট্টগ্রামে রেজাউল করিম রনি নামের এক যাত্রীকে বাস থেকে ধাক্কা দিয়ে সড়কে ফেলে তাঁকে পিষে হত্যা করে পালিয়েছে বাসচালক ও তার সহকারী। একই দিন বাসচাপায় দেশের বিভিন্ন স্থানে নিহত হয়েছে আরো দুজন। এসব সড়ক দুর্ঘটনা যেদিন ঘটেছে, সেদিনই ঢাকায় সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এই সভা থেকে অন্তত ২০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে জাতীয় মহাসড়কে টমটম-লেগুনার মতো ধীরগতির কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। মহাসড়কে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিসীমা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে। ঢাকায় বাসগুলোর প্রতিযোগিতা বন্ধে চুক্তিভিত্তিক চলাচল বন্ধ করার আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। ঢাকার নগর পরিবহনের আওতাধীন সব ধরনের বাস আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রং করে সৌন্দর্য বাড়াতে হবে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এমন অনেক সিদ্ধান্ত এর আগেও নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেসব সিদ্ধান্ত কি বাস্তবায়িত হয়েছে? শিক্ষার্থীদের সাম্প্রতিক সময়ের আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাও উপেক্ষিত হয়েছে। শুধু সিদ্ধান্ত নিলে বা নির্দেশনা দিলেই যে সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা বন্ধ হবে বা সংকট কেটে যাবে, তা নয়। সবার আগে প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। যানবাহনের মালিক-চালক-শ্রমিকদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে না পারলে কোনো দিনই সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে না। মানসিকতার পরিবর্তন এক দিনে হবে না। বর্তমান ব্যবস্থায় এই পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। গণপরিবহনে সরকারি যানবাহন না বাড়ালে মালিকদের একতরফা রাজত্ব বন্ধ হবে না। এ জন্য সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের হাতে বিআরটিসি আছে। ঢাকাসহ সব রুটের পারমিট সরকারি প্রতিষ্ঠানই দিয়ে থাকে। সব রুটে বিআরটিসির বাস সার্ভিস চালু করে মালিকদের একচ্ছত্র আধিপত্য ভাঙতে হবে। এই একটি কাজ করতে পারলে মালিক-শ্রমিকরা যখন-তখন ধর্মঘট ডেকে দেশকে জিম্মি করতে পারবে না।  

সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ করতে আন্তরিকভাবেই কাজ করতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে পারলে সড়ক দুর্ঘটনার হার অনেক কমে আসবে।



মন্তব্য