kalerkantho


শ্রমবাজারে ফের দুর্নীতির হানা

অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে

২৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে মাত্র ১০টি এজেন্সির মাধ্যমে এসপিপিএ পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো বন্ধ হয়ে গেছে। ২০১৬ সাল থেকে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণ করে আসছিল বাংলাদেশের ১০টি এজেন্সি। উভয় দেশের সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে ৩৭ হাজার টাকা নেওয়ার কথা। অভিযোগ উঠেছে, সে দেশের একটি সিন্ডিকেটের সঙ্গে আঁতাত করে কর্মীপ্রতি দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দেশের এই এজেন্সিগুলো। বিষয়টি মালয়েশিয়ায় জানাজানি হয়ে গেলে সেখানে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে মালয়েশিয়া সরকার মাত্র ১০ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াটি আপাতত বন্ধ করে দেয়। ওদিকে লেবাননের শ্রমবাজারে কর্মী পাঠানো আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। বৈরুতে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত দূতাবাস আর কোনো চাকরির চুক্তিপত্র সত্যায়ন করবে না। লেবাননে কর্মী পাঠানোর ব্যাপারে সরকার নতুন নীতিমালা চূড়ান্ত করার পর কর্মী পাঠানো শুরু হবে। দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দেশের কর্মী পাঠানোর মধ্য দিয়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ অক্ষুণ্ন রাখার পথটি কিছু অসাধু চক্রের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির ভিত্তিতে যেভাবে সেখানে কর্মী পাঠানোর কথা, তাতে এজেন্সি ও কর্মী উভয় পক্ষেরই লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল। কারণ বায়রায় অন্য সব এজেন্সিকে বাদ দিয়ে মাত্র ১০টি এজেন্সিকে কর্মী পাঠানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এই ১০ এজেন্সি মিলে একটি সিন্ডিকেট তৈরি করে মালয়েশিয়ার সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগসাজশে দেশের কর্মীদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়। মালয়েশিয়া সরকার জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে সিন্ডিকেটভিত্তিক এই অনৈতিক ব্যবসা বন্ধ করতে চেয়েছে। বিষয়টি বাংলাদেশের জন্যও ইতিবাচক। এতে ওই ১০ এজেন্সির সিন্ডিকেট ভাঙবে। তবে নতুন করে কর্মী পাঠানোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের চিন্তা করতে হবে। এসপিপিএ বন্ধ হলেও জিটুজি পদ্ধতি রয়ে গেছে। এর সঙ্গে নতুন কোন পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানির পথ খোলা যায়, তা নিয়ে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। বিদেশের কোনো শ্রমবাজারই বন্ধ হতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও ভাবতে হবে।



মন্তব্য