kalerkantho


‘সরকারি চাকুরি আইন’

পুনর্মূল্যায়ন করা হোক

২৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



‘সরকারি চাকুরি আইন’-এর খসড়া অবশেষে মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ফৌজদারি অপরাধের কোনো মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগে কোনো সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেপ্তার করতে হলে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমতি লাগবে। এ ছাড়া আইনের খসড়ায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে সরকারি চাকরিজীবীদের আরো কিছু সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি উত্থাপিত ও গৃহীত হতে পারে।

এই আইন প্রণয়নের উদ্যোগ প্রথম নেওয়া হয় ১৯৯২ সালে, তৎকালীন বিএনপি সরকারের আমলে। তখন আইনটির নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট’। কিন্তু বিএনপির সেই আমলে আইনটি চূড়ান্ত করা যায়নি। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ সরকারও আইনটি চূড়ান্ত করার জন্য বেশ কিছু সভা করে; কিন্তু আইনটি চূড়ান্ত করা যায়নি। ২০০৫ সালে আইন প্রণয়নে তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উদ্যোগও ফলপ্রসূ হয়নি। এরপর ড. ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকার আইনটির একটি খসড়া তৈরি করলেও শেষ পর্যন্ত তা পরবর্তী সরকারের জন্য রেখে যায়। ২০০৯ সালে পুনরায় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় এসে ‘সিভিল সার্ভিস আইন’ নামে এটি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেয়। একটি উপকমিটির মাধ্যমে প্রণয়ন করা খসড়া আইনটি ২০১১ সালের মার্চে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। কিন্তু আইনের খসড়া নিয়ে বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে ব্যাপক মতভেদ দেখা দেয়। এরপর সেসব ক্যাডার সার্ভিসের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ২০১৪ সালে এই আইনের একটি খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। ২০১৫ সালের মাঝামাঝি মন্ত্রিসভা সেই খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দিলেও বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়। প্রয়োজনীয় সংশোধনের পর ২০১৬ সালের শেষ দিকে আবার তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপিত হলে কিছু পর্যবেক্ষণসহ আবারও খসড়াটি ফেরত পাঠানো হয়। পুনরায় বিভিন্ন কমিটি, সাবকমিটির মাধ্যমে আইনে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করা হয়। সর্বশেষ খসড়াটি ‘সরকারি চাকুরি আইন’ নামে গত ২০ আগস্ট মন্ত্রিসভায় উত্থাপিত হয় এবং মন্ত্রিসভা তাতে নীতিগত অনুমোদন দেয়। খসড়ায় সরকারি চাকরিজীবীদের যেসব সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে, তা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কারো কারো মতে, একই অপরাধে এক দেশে দুই ধরনের আইনি বিধান থাকতে পারে না। তাঁদের প্রশ্ন, ‘ক্ষমতার মালিক জনগণ’ বলা হলেও যে অপরাধে আদালতে অভিযোগপত্র গৃহীত হওয়ার আগেই একজন সাধারণ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা যায়, সেই একই অপরাধে কেন সরকারি চাকরিজীবীকে গ্রেপ্তার করা যাবে না? কেন তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন হবে? আবার অনেকে এ ধরনের কিছু সুরক্ষা প্রদানের পক্ষেও বলছেন।

আমাদের বিশ্বাস, জাতীয় সংসদে আইন প্রণেতারা বিষয়টির চুলচেরা বিশ্লেষণ করবেন এবং সব ধরনের নৈতিকতার বিচারে উত্তীর্ণ হলেই শুধু আইনটিকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেবেন।



মন্তব্য