kalerkantho


চামড়ার বাজারে দরপতন

স্থানীয়ভাবে প্রক্রিয়াজাত করার উদ্যোগ নিন

২৫ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



চামড়ার বাজারে দরপতন

প্রতিবছর ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নিয়ে চামড়া ব্যবসায়ীদের একাট্টা হতে দেখা যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও ঈদুল আজহায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের দেখা মেলে, যারা ঘুরে ঘুরে পাড়া-মহল্লা থেকে চামড়া সংগ্রহ করার পর আড়তে এনে বিক্রি করে। এবার যেন তার ব্যতিক্রম ঘটতে দেখা গেছে। এবার পাড়া-মহল্লায় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের খুব একটা দেখা মেলেনি। যারা ঘুরে ঘুরে চামড়া কিনেছে, তাদেরও মাথায় হাত। চামড়া কিনে আড়তে এসে অনেকেই অর্ধেক দামে চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছে। এবার আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম হওয়ার অজুহাতে দেশে চামড়ার দাম কমানো হয়েছিল। অন্যদিকে আগেরবারের চামড়া এখনো গুদামে থেকে যাওয়া এবং মূলধনের অভাবের অজুহাতে অনেক আড়তদারই বাজার থেকে নতুন চামড়া সংগ্রহ করেননি। অন্যদিকে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো সংগ্রহাগার না থাকায় ব্যবসায়ীরাও চামড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছে। ফলে এবারের কোরবানির ঈদে চামড়া ব্যবসায়ীদের, বিশেষ করে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের লোকসান গুনতে হচ্ছে।

বাজারে চামড়ার দাম কমে যাওয়ার নেপথ্যে চামড়া সিন্ডিকেটের কারসাজি রয়েছে বলে অনেকের সন্দেহ। এ সন্দেহ একেবারে অমূলকও নয়। আমাদের দেশে অনেক ব্যবসায়ীর সততা ও নৈতিকতা নিয়ে যেসব অভিযোগ আছে তার একটি হচ্ছে সিন্ডিকেট বা জোট গঠন করা। এই সিন্ডিকেট ক্রেতা-বিক্রেতাদের ঠকিয়ে অতিরিক্ত মুনাফা করে। দেশে চামড়ার যে চাহিদা রয়েছে তার বেশির ভাগ সংগ্রহ করা হয় কোরবানির ঈদের সময়। সাধারণ মানুষের পক্ষে পশুর চামড়া ধরে রাখা সম্ভব হয় না। আর এরই সুযোগ নেয় ব্যবসায়ীরা। এবার ব্যবসায়ীদের সামনে রয়েছে অনেক অজুহাত। ট্যানারিশিল্প হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরিত হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সুবিধাদি পূর্ণমাত্রায় স্থাপিত হয়নি। সেখানে শোধনাগার পুরোপুরি চালু করা যায়নি। অন্যদিকে চামড়া পাচার ঠেকাতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। মূলধনের অভাব, ট্যানারি মালিকদের অনীহা, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমে যাওয়া ইত্যাদি অজুহাতে চামড়ার দাম কমানো হয়েছে বলে সাধারণ বিক্রেতাদের অভিযোগ। এ ধরনের অভিযোগ প্রতিবছরই শোনা যায়। অথচ প্রতিকারের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দেশের অত্যন্ত মূল্যবান কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। অথচ সরকার সামান্য উদ্যোগ নিলে এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব। দেশের প্রতিটি জেলায় রয়েছে বিসিক শিল্পনগরী। এসব শিল্পনগরীতে স্থানীয়ভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা ও সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি দেশের মূল্যবান সম্পদ রক্ষা পাবে। ঈদের সময় চামড়া সিন্ডিকেটও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ পাবে না।  

কোরবানির চামড়া বিক্রি করে যে দাম পাওয়া যায় তা মূলত গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার গরিবের হক নিয়ে যেভাবে খেলা করা হয়েছে, তাতে নৈতিকতার বিষয়টি যেমন সামনে চলে এসেছে, তেমনি সরকারের জনপ্রিয়তাও এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা আশা করব, স্থানীয়ভাবে চামড়া প্রক্রিয়াজাত করা ও সংরক্ষণাগার তৈরিতে সরকার দৃষ্টি দেবে।



মন্তব্য