kalerkantho


গাজীপুর সিটি নির্বাচন

আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হোক

২০ জুন, ২০১৮ ০০:০০



গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন আগামী ২৬ জুন। প্রার্থীরা এখন প্রচারে ব্যস্ত। এর পরপরই রয়েছে বরিশাল, রাজশাহী ও সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। সেসব স্থানে রাজনৈতিক দলগুলো প্রার্থী মনোনয়নের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর এ বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে পারে জাতীয় নির্বাচন। ফলে দেশব্যাপী এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে। সিটি করপোরেশন নির্বাচনে যারা ভোটার নয়, তাদেরও মনোযোগ আকর্ষণ করছে সিটি নির্বাচন। পত্রপত্রিকায়ও সিটি নির্বাচন বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এককথায় সারা দেশই এখন এসব সিটি নির্বাচনের দিকে। নির্বাচন বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন কেমন হবে তারই ইঙ্গিত পাওয়া যাবে এসব নির্বাচন থেকে। সেদিক থেকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জন্যও এটি একটি অগ্নিপরীক্ষা। এসব নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার ওপরই নির্ভর করছে ইসির প্রতি জন-আস্থার বিষয়টি।

রাজধানীর পার্শ্ববর্তী হওয়ায় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের একটি বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এর আগে এখানে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল গত ১৫ মে। প্রচার-প্রচারণাও তুঙ্গে উঠেছিল। শেষ মুহূর্তে একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্বাচন স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময় ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল হয় এবং আদালতেরই নির্দেশে নতুন এই তারিখ নির্ধারিত হয়। আশা করা হচ্ছে, এবার নির্বাচন যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হবে। প্রকাশিত খবর অনুযায়ী গাজীপুরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে। প্রচার-প্রচারণারও কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এই দুই প্রার্থী। আর মেয়র নির্বাচন দলীয় প্রতীকে হওয়ায় এটি এখন অনেকটা রাজনৈতিক লড়াইয়েরও রূপ নিয়েছে। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী প্রার্থীরা পরস্পরের প্রতি নানা ধরনের অভিযোগও করে যাচ্ছেন। নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে সচেতন প্রয়াস নিতে হবে। যেসব অভিযোগের ভিত্তি পাওয়া যায়, সেগুলোর ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

আশার কথা, প্রচারণা জমে উঠলেও এখন পর্যন্ত সেখানে নির্বাচনজনিত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অবশ্য ভোটগ্রহণের এখনো দিন পাঁচেক বাকি আছে। এ সময়ে যাতে কোনো সহিংসতা না হয় সে জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোকে প্রস্তুত রাখতে হবে। বিএনপি অভিযোগ করেছে, তাদের কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। অভিযোগ সত্য হলে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদেরও সহনশীলতা দেখাতে হবে। আমরা আশা করি, গাজীপুরসহ অন্য সিটি নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে এবং দেশের মানুষ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের প্রতি পূর্ণ আস্থা নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাবে।

 



মন্তব্য