kalerkantho


রাঙামাটিতে পাহাড়ধস

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ান

১৩ জুন, ২০১৮ ০০:০০



রাঙামাটিতে পাহাড়ধস

আবারও শোকাবহ পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। তাতে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের দুই জেলায় প্রাণ গেছে ১২ জনের। নিম্নচাপের কারণে কয়েক দিন ধরে সেখানে প্রবল বৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় রাঙামাটি জেলায়। মৃত্যুর ঘটনাও সেখানেই বেশি ঘটেছে। জেলার নানিয়ারচর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল মঙ্গলবার উপজেলার চারটি এলাকায় পাহাড়ধসের ঘটনায় মোট ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় মাটিচাপা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে গাছচাপা পড়ে মারা গেছে একজন। আবহাওয়া বিভাগের মতে, বৃষ্টি আরো দুই দিন থাকতে পারে। ফলে আরো পাহাড়ধসের আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসন এর আগে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে অনেককে সরিয়ে নিয়েছে। তার পরও এত লোকের মৃত্যু ঠেকানো যায়নি। তাই বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার কাজটি আরো জোরেশোরে চালিয়ে যেতে হবে।

বৃহত্তর চট্টগ্রামে পাহাড়ধস যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। সেখানে সবচেয়ে বড় পাহাড়ধসের ঘটনাটি ঘটে ২০০৭ সালের জুন মাসে। তার পর থেকে প্রায় প্রতিবছরই ঘটছে এমন শোকাবহ ঘটনা। গত বছরের এই জুন মাসেই রাঙামাটিতে কয়েক দফা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছিল। সেসব ঘটনায় মারা গিয়েছিল শতাধিক মানুষ। তখন চট্টগ্রাম, বান্দরবান ও কক্সবাজারে মারা গিয়েছিল আরো ২০ জনের বেশি। প্রশ্ন হলো, পাহাড়ধসে মৃত্যুর এই মিছিল কি চলতেই থাকবে? সাধারণত দরিদ্র মানুষ স্থানাভাবে বা অর্থের অভাবে পাহাড়ের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পাহাড়ধসের অন্যতম কারণ পাহাড় কাটা, কিন্তু প্রশাসন তা বন্ধ করতে পারছে না। কোথাও কোথাও জেলা প্রশাসন, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধেও পাহাড় কাটার অভিযোগ রয়েছে। একই অভিযোগ রয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও। তাহলে এই পাহাড় কাটা রোধ করবে কে? দ্বিতীয়ত, একটি মহল ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাহাড়ের নিচে ছোট ছোট ঘর তুলে ভাড়া দেয় এবং দরিদ্র মানুষ এসে সেসব ঘরে ভিড় জমায়। এটিও রোধ করা যায়নি। তৃতীয়ত, গাছপালা কেটে পাহাড়গুলো ন্যাড়া করে ফেলা হয়েছে। ফলে কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টিতে উপরিভাগের মাটি নরম হয়ে যায় এবং একসময় তা ধসে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, পাহাড়ধসে মৃত্যু রোধ করতে হলে পাহাড় কাটা বন্ধের পাশাপাশি ন্যাড়া পাহাড়গুলোকে সবুজ আচ্ছাদনে ছেয়ে দিতে হবে। পাহাড়ের নিচে বস্তি নির্মাণ বন্ধ করতে হবে। আর এই কাজগুলো মূলত স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনকেই করতে হবে। যত দিন এই ব্যবস্থাগুলো নেওয়া না যাবে, তত দিন শুধু উপদেশ দিয়ে বা মাইকিং করে কোনো লাভ হবে না। পাহাড়ধসে এমন দুঃখজনক মৃত্যুর ঘটনা রোধ করতে সরকারকেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতার পরিচয় দিতে হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে, তাদের যথাযথ আর্থিক সহযোগিতা দিতে হবে।

 



মন্তব্য