kalerkantho


আবারও পদদলিত হয়ে মৃত্যু

এর পুনরাবৃত্তি যেন আর না হয়

১৬ মে, ২০১৮ ০০:০০



চট্টগ্রামে আবারও পদদলিত হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত সোমবার চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় কেএসআরএম শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মালিক দুস্থদের মধ্যে রোজা উপলক্ষে বিভিন্ন ইফতারসামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এ সময় হাজার হাজার মানুষ হুড়াহুড়ি শুরু করলে পদদলিত হয়ে ১০ জন নারী মারা যান। ২০০৮ সালেও একই স্থানে ইফতারসামগ্রী বিতরণের অনুরূপ বিশৃঙ্খলায় সাতজনের প্রাণহানি হয়েছিল। এ ছাড়া গত বছর চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর কুলখানি উপলক্ষে নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে মেজবানের আয়োজনে হুড়াহুড়িতে প্রাণ গিয়েছিল ১০ জনের। শুধু চট্টগ্রাম নয়, দেশের আরো অনেক স্থানেই বিভিন্ন সময় এ ধরনের বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু তার পরও এসব আয়োজনের ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির একই চিত্র আমরা দেখতে পাই, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

দুস্থ ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করার মনমানসিকতা অনেকেরই থাকে না, যাঁদের আছে তাঁদের আমরা প্রশংসা করি। কিন্তু সে কাজটি করতে হবে দক্ষতার সঙ্গে। আগেভাগে প্রচার করা হলে দরিদ্র মানুষ সামান্য কিছু খাদ্যসামগ্রী পাওয়ার আশায় ভিড় করবেই। আর দরিদ্র মানুষের শৃঙ্খলাবোধ ততটা উন্নত না হওয়ায় হুড়াহুড়ির ঘটনা প্রায়ই দেখা যায়। আয়োজকদের সব বিষয় আগে থেকেই বিবেচনায় নিতে হয়। যদি মনে হয় নিজস্ব লোকবল দিয়ে সেই অনুষ্ঠান সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যাবে না, তাহলে প্রশাসন বা অন্যদের সহায়তা নিতে হবে। জানা যায়, সাতকানিয়া থানাকে মৌখিকভাবে অবহিত করা হয়েছিল এবং তারা ১৫ জনের একটি টহল দল পাঠিয়ে তাদের দায়িত্ব শেষ করেছিল, যাদের বেশির ভাগই ছিল নারী পুলিশ। হাজার হাজার লোকের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে তারা ব্যর্থ হয়েছে। ফলে প্রাণ দিতে হয়েছে ১০ জন হতভাগ্য নারীকে, যাঁরা অভাবের সংসারে ছেলে-মেয়েদের মুখে একটু ভালো কিছু তুলে দেওয়ার আশায় এখানে এসেছিলেন। সাতকানিয়ার এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি কবে রিপোর্ট দেবে, তাতে কী সুপারিশ থাকবে এবং তার কতটা বাস্তবায়িত হবে—এ সব কিছুই জানার সৌভাগ্য হয়তো আমাদের হবে না। আমরা চাই, এমন বেদনাদায়ক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর কোথাও না হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে দেওয়া হবে এবং আহতদের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া হবে। কিন্তু টাকায় কি আপনজন হারানোর ক্ষতিপূরণ হবে?

আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে যাঁরাই এ ধরনের আয়োজন করবেন, তাঁরা আগেভাগেই সব দিক বিবেচনা করে ব্যবস্থা নেবেন। ঘটা করে খুব বড় আয়োজন না করে সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা যায় এমন ছোট ছোট আয়োজনও করা যেতে পারে; কিন্তু কোনোভাবেই তা যেন এমন দুঃখজনক পরিণতির কারণ না হয়।

 



মন্তব্য