kalerkantho


সীমান্তে অপরাধমুক্ত এলাকা

উভয় পক্ষের নজরদারি বাড়াতে হবে

১৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে চার হাজার ১৫৬ কিলোমিটার স্থল সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের যশোর সীমান্তের পুটখালী ও দৌলতপুর বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকা এবং বিপরীত দিকে ভারতের কল্যাণী ও গুনারমধ বিওপির অধীনে ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার এলাকা পরীক্ষামূলকভাবে ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ বা অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে ঘোষণা করেছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি ও বিএসএফ। গত শুক্রবার দুপুরে যশোরের শার্শা সীমান্তের বিপরীতে ভারতের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বনগাঁও সীমান্তে ৬৪ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কল্যাণী বিওপির আওতাধীন সীমান্ত এলাকায় এই ‘ক্রাইম ফ্রি জোন’ উদ্বোধন করা হয়। ২০১৭ সালে এই ক্রাইম ফ্রি জোন বা অপরাধমুক্ত এলাকার প্রস্তাব দিয়েছিলেন বিজিবি মহাপরিচালক। সমর্থন করেছিলেন বিএসএফ মহাপরিচালক। সীমান্তের এই অংশে অপরাধ বন্ধে এরই মধ্যে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা, সার্চলাইট, থার্মাল ইমেজারসহ বিভিন্ন নজরদারি প্রযুক্তি বসিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি সীমান্তে অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণকে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার মধ্যে চোরাচালান, নারী ও শিশু পাচার, মানবপাচার, মাদক, অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচারের মতো কোনো আন্তসীমান্ত অপরাধ বা কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড যাতে ঘটতে না পারে সে জন্য পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি ও বিএসএফ।

বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘ স্থল সীমান্তে চোরাচালান ও নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে। কখনো কখনো প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত দুই বন্ধুরাষ্ট্রের সীমান্তে এ ধরনের ঘটনা একেবারেই অনভিপ্রেত। পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে উভয় দেশের সীমান্তে চোরাচালান বন্ধ করা অসম্ভব কিছু নয়। চোরাচালান বন্ধ করা গেলে সীমান্ত এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব। উভয় পক্ষের সদিচ্ছা থাকলে সীমান্তের যেকোনো অপরাধ দমন করা কঠিন কোনো কাজ নয়। এ জন্য উভয় পক্ষ অর্থাৎ বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। সীমান্তের উভয় পাশে দুই পক্ষের সমন্বিত প্রহরা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এই ৮ দশমিক ৩ কিলোমিটার এলাকাকে পরীক্ষামূলকভাবে অপরাধমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হয়েছে। বলা যেতে পারে সীমান্ত এলাকা অপরাধমুক্ত করার জন্য এটি একটি মডেল। এই মডেলে সাফল্য এলে পুরো সীমান্তেই এই ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। উভয় পক্ষের আন্তরিকতায় সীমান্ত এলাকা অপরাধমুক্ত করা সম্ভব বলে আমরা মনে করি।



মন্তব্য