kalerkantho


উন্নয়নে সাধারণের সংশ্লিষ্টতা

সরকারের নতুন উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তার টাকা খরচে ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা চলছেই। চলতি (২০১৭-১৮) অর্থবছরের মূল এডিপিতে বিদেশি সহায়তা বাবদ ৫৭ হাজার কোটি টাকা ধরা হয়েছিল; সংশোধিত এডিপিতে চার হাজার ৯৫০ কোটি টাকা (৩ শতাংশ) কমছে। তবে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ কমছে না। এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৩১ কোটি টাকার মূল এডিপিতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ৯৬ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপি আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় তোলা হবে। একটি প্রবণতা অনেক দিন ধরেই চলছে—রাষ্ট্রীয় কোষাগারের টাকা খরচের দিকে কর্মকর্তাদের বেশি ঝোঁক। এ টাকা খরচে তত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হয় না। এ কারণেই এডিপিতে বিদেশি সহায়তা কমানো হয়।

নির্বাচনের বছর হওয়ায় এবার এমপি-মন্ত্রীদের বাড়তি টাকার চাহিদা রয়েছে। তাঁদের পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হতে পারে। ফলে সংশোধিত এডিপির আকারে খুব বেশি পরিবর্তন হবে না। রাজনৈতিক বিবেচনায় সংশোধিত এডিপিতে আরো ৩১১টি নতুন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বরাবরই নতুন প্রকল্প না নিয়ে পুরনো প্রকল্প শেষ করার কথা বলেন; কিন্তু সরকার কান দেয় না। ফলে এডিপিতে প্রকল্পজট তৈরি হয়। বিশেষ উন্নয়ন সহায়তা খাতের বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম হয়।

এডিপির বরাদ্দে চালাকি ও অনিয়মের কারণ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনসাধারণের সংশ্লিষ্টতা না থাকা। শেষ পর্যন্ত সরকার তা বুঝতে পেরেছে, এটি আশার দিক। আগামী বাজেট প্রণয়নের আগে তৃণমূল পর্যায়ের সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শহুরে উচ্চবিত্ত—সবার আশা-আকাঙ্ক্ষার কথা জানতে চায় সরকার। মানুষ নিজ এলাকার ও দেশের কী ধরনের উন্নয়ন চায়, উন্নয়ন কর্মসূচিতে কোন বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে চায়, সেসব বিষয়ে তথ্য জোগাড় করে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পাঠানোর জন্য বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। জনসাধারণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি করতে চায় সরকার। এসব বিষয়কে সংসদীয় আসন ও জেলার ভিত্তিতে বিন্যস্ত করা হবে। সরকার আশা করছে, এ প্রক্রিয়ায় জনসাধারণের চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সহজ হবে।

উন্নয়ন প্রকল্প প্রণয়ন ও অর্থ বরাদ্দের চলমান প্রক্রিয়ায় সাধারণ মানুষের সংশ্লিষ্টতা নেই। স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের ভূমিকাও নেই। এমপি-মন্ত্রীরা তড়িঘড়ি করে বছরের শেষ দিকে এলাকার উন্নয়নের নামে বরাদ্দ চান। ঢাকায় বসে সব চূড়ান্ত করা হয়। এডিপিতে পরিবর্তন হয় এমপিদের চাহিদা ও কর্মকর্তাদের সুবিধা অনুযায়ী। এই প্রবণতার অবসান হওয়া দরকার। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় জনগণকে সম্পৃক্ত করার ব্যাপারে সরকারের নতুন উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক।

 



মন্তব্য