kalerkantho


তিন সমঝোতা স্মারক সই

ঢাকা-হ্যানয় সম্পর্ক দৃঢ় হোক

৬ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



তিন সমঝোতা স্মারক সই

সফররত ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুই দেশের প্রতিনিধিদলের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের মধ্যে মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও যন্ত্র প্রকৌশল খাতে সহযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ে তিনটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ২০১২ সালে দুই দেশের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল, এবার তা নবায়ন করা হয়েছে। দুই শীর্ষ নেতার বৈঠকে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। একই সঙ্গে একটি কার্যকর ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সমর্থন জানিয়েছেন।

দীর্ঘ সময় পর ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আশা করা যেতে পারে, এই সফরের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের যৌথ বাণিজ্যের অনেক সম্ভাবনাময় দুয়ার খুলে যাবে। বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কূটনীতির যুগে যেকোনো দেশের সঙ্গে যৌথ বাণিজ্যের খাতগুলো চিহ্নিত করা খুবই জরুরি। ভিয়েতনামের মতো একটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের কোন কোন খাতে বাণিজ্যের সম্ভাবনা আছে, সেগুলো যাচাই করে দেখা দরকার। এ জন্য প্রয়োজনে উভয় দেশের সমন্বয়ে একটি বিজনেস কাউন্সিল গঠন করা যেতে পারে। ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে একটি বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও ছিল। এসব বিষয় নিয়েও নিশ্চয় আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে ভিয়েতনাম যখন একটি বড় বিনিয়োগকারী দেশ, তখন আমাদের দেশে ভিয়েতনামের বিনিয়োগ আহ্বান করা যেতেই পারে। এ ছাড়া ভিয়েতনামের সামুদ্রিক খাবার, হাইটেক, তথ্য-প্রযুক্তি, গাড়ি, ইস্পাত, টেলিযোগাযোগ, জ্বালানি ও অবকাঠামো খাত বেশ উন্নত। এসব খাতে একসঙ্গে কাজ করলে দুই দেশই উপকৃত হবে। ভিয়েতনামের কারিগরি অভিজ্ঞতাও বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য লাভজনক বিবেচিত হতে পারে। আইসিটি খাতে অগ্রগামী দেশ ভিয়েতনাম এখন হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার উৎপাদন করছে। বাংলাদেশে এখন আইসিটি খাতে বিনিয়োগ হচ্ছে। আইসিটি পার্ক হচ্ছে। এসব কাজে ভিয়েতনামের অভিজ্ঞতা আমাদের জন্য মঙ্গল বয়ে আনবে।

তিন দিনের সফরে গত রবিবার ঢাকা এসে ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্ট ত্রান দাই কুয়াং আজ ঢাকা ত্যাগ করবেন। তাঁর এই সফরের মধ্য দিয়ে নতুন সম্ভাবনার যে দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে, তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে। সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে, পাশাপাশি বিনিয়োগের জন্য উভয় পক্ষকে কাজ করতে হবে। পারস্পরিক আস্থা তৈরি হলে আধুুনিক বিশ্বে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হতে সময় লাগে না। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের ব্যাপারে বিশ্বের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ভিয়েতনামও আগ্রহী হবে। এর জন্য প্রয়োজন বিশেষভাবে নিজেদের তুলে ধরা। বাংলাদেশ ও ভিয়েতনামের সম্পর্ক আরো দৃঢ় হবে বলে আমরা আশাবাদী।

 

 


মন্তব্য