kalerkantho


নিয়ম ভেঙে বৃক্ষ নিধন

সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয় প্রয়োজন

৫ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বিমানবন্দর সড়কের ৫০০ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে। রাজধানীর বনানী উড়াল সেতু থেকে শুরু হয়েছে ঢাকা সড়ক বিভাগের সড়ক। নিয়ম অনুযায়ী এই সড়কে কোনো উন্নয়নকাজ করতে গেলে সড়ক বিভাগের অনুমতি নেওয়া প্রয়োজন। অথচ তাদের অনুমতির তোয়াক্কা না করে লা মেরিডিয়ান হোটেল থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কের পাশের বড় গাছগুলো কেটে ফেলেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। যানজট নিরসনে ইউ লুপ প্রকল্প বাস্তবায়নের অজুহাতে গাছগুলো কেটে নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এর আগেও এসব গাছ কাটার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে ঢাকা সড়ক বিভাগের বাধার মুখে তারা তা কাটতে পারেনি। এবার আর অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করেনি তারা। রাতের অন্ধকারে গাছ উপড়ে ফেলে দিনে তা সরিয়ে ফেলার কাজ করেছে। ঢাকা সড়ক বিভাগ এখন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে।

রাজধানী শুধু নয়, দেশের যেকোনো এলাকার উন্নয়নকাজের জন্য গাছ কাটার প্রয়োজন পড়তে পারে। বিশেষ করে সড়ক সংস্কার বা সড়ক বর্ধিত করার কাজ করতে গেলে সড়কের পাশের গাছ কাটার দরকার হয়। কিন্তু গাছ কাটারও তো নিয়ম আছে। রাজধানীতে উন্নয়নকাজে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব সব সময় দেখা যায়। কোনো একটি সেবা সংস্থা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করলে দীর্ঘদিন তা মেরামত হয় না। ভোগান্তিতে পড়তে হয় এলাকাবাসীকে। এমন ঘটনা রাজধানীতে হরহামেশাই ঘটে। কোনো প্রতিকার নেই। বিমানবন্দর সড়কের বড় বড় গাছ কেটে ফেলার ক্ষেত্রেও তেমনটি ঘটেছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ইউ লুপ তৈরির জন্য গাছ কেটে ফেলার চেষ্টা করেছে। বাধা দিয়েছে ঢাকা সড়ক বিভাগ। বাধা পেয়ে একসময় সিটি করপোরেশন নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে গাছ কেটে ফেলেছে। এতে শুধু আর্থিক ক্ষতি হয়েছে তা নয়, সড়কের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়েছে। আবার ইউ লুপ তৈরি হওয়ার পর নতুন সৌন্দর্যে হয়তো ধরা দেবে এই সড়কটি। বিমানবন্দর সড়কের মতো ব্যস্ত সড়কের যানজটও কমে যাবে। কিন্তু এ কাজটি পারস্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে করা যেত। সিটি করপোরেশন ও ঢাকা সড়ক বিভাগের মধ্যে একটি সমঝোতা হওয়া খুব কঠিন কাজ ছিল না।

ভবিষ্যতে এই সমন্বয়ের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। উন্নয়ন যেমন হতে হবে, তেমনি উন্নয়ন করতে গিয়ে সেবা সংস্থাগুলো যেন নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক নষ্ট না করে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

 



মন্তব্য