kalerkantho


বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি

মনোনয়নে জনপ্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটুক

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদের নির্বাচনে ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচনের ইতিহাসে এত বিপুলসংখ্যক প্রার্থীর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার কোনো রেকর্ড নেই। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও তাদের সমমনাদের নির্বাচন বয়কটের সুযোগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন অর্ধেকেরও বেশি সংসদ সদস্য। সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিতদের কোনো রকম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি। দল থেকে একজনকে মনোনয়ন দেওয়ায় অন্যদের সেখানে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ ছিল না। কোথাও কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থীরা শেষ পর্যন্ত টিকে থেকে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়ে জনসমর্থন নিয়ে সংসদে এসেছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার সংসদ সদস্যদের অনেকে এলাকায় তেমন পরিচিত ছিলেন না। কেন্দ্রের আশীর্বাদে মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচিত হয়ে অনেকেই এলাকার সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি এমন অভিযোগ রয়েছে। সবচেয়ে বড় অভিযোগ, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় নিজস্ব একটি বলয় তৈরি করেছেন। এই বলয়ের বাইরে তাঁদের কোনো যোগাযোগ নেই। ফলে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হয়েও অনেকেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এলাকায় জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন। এতে দলেরও ক্ষতি হয়েছে। এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি জনগণের আস্থা হারালে কিছুটা হলেও তার প্রভাব দলের ওপর পড়ে। কালের কণ্ঠ’র অনুসন্ধানে এমন বেশ কিছু আসনের চিত্র বেরিয়ে এসেছে, যেখানে আসন্ন একাদশ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিতরা এবার তাঁদের নির্বাচনী এলাকায় দলের মধ্যেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বেন।

সব রাজনৈতিক দলই মনোনয়নের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলে। দলের তৃণমূল পর্যায় থেকে সুপারিশ নিয়ে কেন্দ্রে মনোনয়ন বোর্ডের সামনে হাজির হতে হয় প্রার্থীদের। অবশ্য দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করবেন। নির্বাচনের সময় এমনও দেখা গেছে, দল কেন্দ্রীয়ভাবে মনোনয়ন দিলেও এলাকার কর্মী-সমর্থকরা তা মেনে নিতে পারেনি। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে গোলযোগ-সংঘাতের ঘটনাও ঘটতে দেখা গেছে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে এখন থেকেই দলকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এবারের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় মনোনয়নে ভুল হলে দলকেই তার খেসারত দিতে হবে। কাজেই জনবিচ্ছিন্নদের নির্বাচনে মনোনয়ন না দিয়ে জনভিত্তি আছে, এমন প্রার্থীদের ব্যাপারে সব দলকে মনোযোগী হতে হবে। প্রার্থী মনোনয়নে তৃণমূলের প্রত্যাশার প্রতিফলন না থাকলে সব দলকেই তার জন্য মূল্য দিতে হতে পারে। কাজেই আমরা মনে করি, একাদশ সংসদ নির্বাচনে যোগ্য ও জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যদের বেছে নেওয়া হবে। তাতে নির্বাচিতরা জনগণকে মূল্যায়ন করতে পারবেন। জনবিচ্ছিন্ন নয়, জনপ্রিয়দের মনোনয়ন দিলে সমৃদ্ধ হবে গণতন্ত্র।



মন্তব্য