kalerkantho

বাড়ছে খুনের ঘটনা

কিশোর অপরাধ দমনে ব্যবস্থা নিন

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



পুরান ঢাকায় গত বৃহস্পতিবার হোলির আনন্দ উৎসবে ডেকে নিয়ে এক তরুণকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত তরুণ এবারের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। আদালতপাড়াঘেঁষা শাঁখারীবাজারে প্রকাশ্য দিবালোকেই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ফোনে ওই তরুণকে ডেকে নেওয়া হয়। মায়ের কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আর ফেরা হয়নি তার। হোলির অনুষ্ঠানে কারো ছুরি নিয়ে আসার কথা নয়, এমনটি জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, পরিকল্পিতভাবেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী রনোকে হত্যা করা হয়েছে। এর নেপথ্যে প্রেমঘটিত কারণ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগের দিন বুধবার রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আহত একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শুধু রাজধানী নয়, দেশের সর্বত্রই এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। সামান্য কারণে খুনখারবি হয়ে যাচ্ছে। কোনো প্রতিকার নেই। পারিবারিক বন্ধন ভেঙে গেছে অনেক আগেই। সামাজিক অনুশাসন বলতে কিছু নেই। আগের দিনের সংস্কৃতি এখন একেবারেই অচল। নাগরিক জীবনে অভ্যস্ত মানুষ এখন ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে। ফলে সমাজের সর্বস্তরে এক ধরনের অবক্ষয় দেখা দিয়েছে; যার মাসুল দিতে হচ্ছে জীবন দিয়ে। রনোকে যারা হত্যা করেছে, পারিবারিক জীবনে তাদের সেই বন্ধন ও অনুশাসন থাকলে এ কাজ করতে পারত না। ছোটখাটো অনেক অপরাধ করেও সাজা না হওয়ার কারণেই খুন করতে পিছপা হয়নি এই তরুণরা। এ যেন এক ঘোর অন্ধকারের দিকে যাত্রা। এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে আমাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভালো কিছু চিন্তা করা যাবে না। যে তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমাদের স্বপ্ন দেখার কথা, তারাই যদি এখন অপরাধজগতের দিকে পা বাড়ায়, তাহলে?

এ অবস্থা থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হলে এখনই সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে অনুশাসন ফিরিয়ে আনতে হবে। সর্বোপরি প্রয়োজন হবে রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের। এ ছাড়া এসব অপরাধ থেকে সমাজের মুক্তি নেই। আমরা আশা করব, এ ধরনের সব ঘটনার দ্রুত বিচার হবে। অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা কার্যকর হবে। সমাজ থেকে সব ধরনের অপরাধ দূর হোক, এটাই আমাদের প্রত্যাশা। রনোর মায়ের মতো আর কোনো মায়ের বুক যেন খালি না হয়।

 


মন্তব্য