kalerkantho


মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা

বাংলাদেশকে আরো সতর্ক থাকতে হবে

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



মিয়ানমার সীমান্তে উত্তেজনা

মিয়ানমার সীমান্তে ফের উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশের নাইক্ষ্যংছড়ি এলাকার সীমান্তে মিয়ানমার হঠাৎ করেই ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও সেনা মোতায়েন শুরু করে। সেখানে নো ম্যানস ল্যান্ডে থাকা সাত হাজার রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে ঢুকে যাওয়ার জন্য ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। ফাঁকা গুলিও বর্ষণ করে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বা বিজিবিকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য তৈরি থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ফলে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি হয়েছে, তালিকা হস্তান্তর করা হয়েছে এবং শিগগিরই প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে, সেখানে মিয়ানমারের এমন আচরণ মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয়। বাংলাদেশ এ ব্যাপারে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে। বিজিবির আহ্বানে গতকাল বিকেলে পতাকা বৈঠকে বসেছে মিয়ানমার এবং এই সম্পাদকীয় লেখার সময়ও বৈঠক চলছিল বলে জানা গেছে। আমরা আশা করি, মিয়ানমার যুক্তিসংগত আচরণ করবে এবং উত্তেজনা সৃষ্টির মাধ্যমে প্রত্যাবাসনপ্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার মতো কোনো অপরিণামদর্শী কাজ থেকে বিরত থাকবে।

অতীতেও দেখা গেছে, মিয়ানমারের কথা ও কাজে কোনো মিল থাকে না। এমনকি চুক্তি করেও তা রক্ষা করে না। কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মিয়ানমারের সর্বশেষ সেনা সমাবেশের ঘটনাকে তেমনি কোনো টালবাহানার ইঙ্গিত হিসেবেই দেখছেন। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, দেশটির সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের একটি বড় অংশই চায় না রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরে যাক। বিশ্বে কোণঠাসা হয়ে পড়ায় তারা রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে সম্মত হলেও এখন নানা রকম ছুতা তৈরির চেষ্টা করছে। সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা তেমনই একটি অপকৌশল মাত্র। বাংলাদেশকে এ ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। শেষ সময় পর্যন্ত চূড়ান্ত ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। কোনোভাবেই তাদের পাতা ফাঁদে পা দেওয়া চলবে না। আমরা আশা করি, পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশ দৃঢ়তার সঙ্গে বিষয়গুলো তুলে ধরবে এবং মিয়ানমারও সুবুদ্ধির পরিচয় দেবে। পাশাপাশি মিয়ানমারের এ ধরনের উসকানির যেকোনো চেষ্টা জাতিসংঘকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করতে হবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য তা এক মারাত্মক আঘাতস্বরূপ। তা ছাড়া উদ্ভূত পরিস্থিতি স্থানীয় সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশেরও ব্যাপক ক্ষতি করছে। এই অবস্থা যত দীর্ঘায়িত হবে ক্ষতির পরিমাণ তত বাড়বে। অন্যদিকে আসন্ন বর্ষায় রোহিঙ্গাদের জন্য যে বিপর্যয়কর অবস্থা নেমে আসবে, তাকে সামাল দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়বে। এ অবস্থায় যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করতে হবে। আর সে জন্য মিয়ানমারের সদিচ্ছা সবচেয়ে জরুরি। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা দেওয়া, তাদের মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করাসহ আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে মিয়ানমারকেই উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। মিয়ানমার যাতে অজুহাত সৃষ্টি করে চুক্তি বাস্তবায়ন থেকে সরে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।



মন্তব্য