kalerkantho


শিশুদের খেলার মাঠ কোথায়

সুস্থ বিকাশের উপযোগী পরিবেশ চাই

২ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



শিশুদের খেলার মাঠ কোথায়

ফার্মের মুরগি যেমন ছোট্ট খোপে বন্দি থাকে, ঠিকমতো নড়াচড়াও করতে পারে না, আমাদের শিশুদের অবস্থাও হয়েছে তেমনই। ঘরের চার দেয়ালের মধ্যে বন্দি। বেশির ভাগ স্কুলেও ঠিক তা-ই, ছোট্ট পরিসরের শ্রেণিকক্ষেই সময় কাটে। না আছে খেলাধুলা বা শরীরচর্চার সুযোগ, না আছে মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ। বিজ্ঞজনরা বলে গেছেন, সুস্থ দেহেই থাকে সুন্দর মন। আর বিদ্যা অর্জন বা বিকশিত হওয়ার জন্য সুস্থ দেহ ও সুন্দর মন দুটিই জরুরি। তাহলে আমাদের শিশুরা কি সুস্থ ও সুন্দরভাবে বিকশিত হচ্ছে? উত্তর ইতিবাচক হওয়ার অবকাশ খুবই কম। বিশেষ করে নগর-মহানগরের শিশুদের বিকাশ যে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে হচ্ছে না, তা আজ স্বীকৃত সত্য। কিন্তু কেন হচ্ছে না? কেন তাদের আমরা খেলার মাঠ দিতে পারছি না? কেন তাদের মানসিক বা সাংস্কৃতিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ দিতে পারছি না? এই প্রশ্নগুলোর জবাব পাওয়া খুবই জরুরি।

কয়েক দশক আগেও ঢাকায় অনেক মাঠ ছিল। এমনকি ঘিঞ্জি এলাকা হিসেবে পরিচিত পুরান ঢাকায়ও ছিল অনেক মাঠ। যেমন—গেণ্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠ, নারিন্দার শিশু পার্ক, মালিটোলা পার্ক, বংশাল ট্রায়াংগল পার্ক, বাহাদুর শাহ পার্ক, নবাব সিরাজউদ্দৌলা পার্ক, জগন্নাথ সাহা পার্ক, নাজিরাবাজার পার্ক, বকশীবাজার পার্ক, বাংলাদেশ মাঠসহ আরো অনেক পার্ক ও মাঠ। নতুন ঢাকায়ও ছিল অনেক মাঠ। যেমন—লালমাটিয়ায় বিশাল লম্বা মাঠ ছিল, শত শত শিশু খেলতে পারত। মোহাম্মদপুরে শহীদ পার্ক খেলার মাঠ, ধানমণ্ডি মাঠ, কলাবাগান মাঠ, বাসাবো খেলার মাঠসহ অনেক মাঠ ও পার্ক ছিল উন্মুক্ত। ক্রমে এসব মাঠ সংকুচিত হয়েছে, মাঠে স্থাপনা তৈরি হয়েছে, কোথাও মার্কেট তৈরি হয়েছে—খেলাধুলার পরিবেশ নেই। অনেক মাঠ অস্তিত্বই হারিয়ে ফেলেছে। কিছু মাঠ ক্লাবের নাম করে দখলে নেওয়া হয়েছে, সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেগুলোতে মদ-জুয়ার আড্ডা বসছে। কিছু মাঠ চলে গেছে অসামাজিক চরিত্রের লোকজনের দখলে, শিশুদের সেসব জায়গায় নিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। নতুন ও পুরান ঢাকায় অনেক জলাশয় ছিল, যেগুলোতে শিশুরা সাঁতার কাটতে পারত। এখন কোথায় সেসব! আর শুধু ঢাকা নয়, অন্য বড় শহরগুলোতেও একই অবস্থা। অথচ এসব মাঠ, পার্ক, জলাশয় রক্ষার জন্য অনেক আইন রয়েছে। দেখাশোনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিটি করপোরেশন রয়েছে। মাঠ বা জলাশয়ের চরিত্র বদল ঠেকানোর জন্য জেলা প্রশাসন রয়েছে। রয়েছে আরো অনেক সংস্থা। তারা কী করছে? এভাবে চলতে থাকলে মাঠ-পার্ক যেটুকু অবশিষ্ট আছে, অচিরেই তা-ও নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

জাতিসংঘের শিশু সনদে বলা হয়েছে, শিশুদের শারীরিক, মানসিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশের উপযোগী পরিবেশ রক্ষা ও সৃষ্টি করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। জাতীয় শিশুনীতি ও শিক্ষানীতিতেও শিশুর বিকাশ নিশ্চিত করার জন্য অনেক কথা বলা হয়েছে। অথচ বাস্তবে হচ্ছে উল্টোটা। সুযোগ সৃষ্টি তো হচ্ছেই না, যেটুকু সুযোগ আছে, তা-ও রক্ষা করা যাচ্ছে না। আমরা রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের কথা ও কাজের মধ্যে সংগতি দেখতে চাই।

 


মন্তব্য