kalerkantho


এমন সংঘর্ষ অপ্রত্যাশিত

ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতা কাম্য

১ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে তুলকালাম ঘটে গেছে সিলেটের জৈন্তাপুরে। মাইকে ঘোষণা দিয়ে এ কাণ্ড করা হয়েছে। জৈন্তাপুর উপজেলার আমবাড়ীতে গত সোমবার ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছিল। ‘ইসলামবিরোধী’ বক্তব্য দেওয়া হয় কি না তা দেখার জন্য কওমি ধারার অনুসারী স্থানীয় একদল লোক সেখানে যায়। একপর্যায়ে তর্ক বাধে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নিলে হরিপুর মাদরাসার এক ছাত্র মারা যায়, অনেকে আহত হয়। ঘটনার কথা প্রচার করা হয় একটু ভিন্নভাবে। হরিপুরের বিভিন্ন মসজিদের মাইকে বলা হয়, ওয়াজ মাহফিলে হরিপুর মাদরাসার শিক্ষক ও ছাত্র নিহত হয়েছে। পাল্টা হামলার আহ্বানও জানানো হয়। দ্রুত এ কথা পুরো জৈন্তাপুরে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন এলাকার কওমি মাদরাসার ছাত্র ও অন্যান্য লোকজন গাড়িযোগে দেশি অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আমবাড়ী এলাকায় যায় এবং ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। তিনটি গ্রামের ৪৫টি বাড়িতে হামলা চালানো হয় এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে রাত ২টায় বিজিবিকে তলব করা হয়। পুলিশ-র‌্যাবও সেখানে ছুটে যায়।

ঘটনাটি নিতান্তই মতবিরোধপ্রসূত। এলাকার পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। সিলেট জেলা প্রশাসন একটি তদন্ত কমিটি করেছে। ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের জন্য ত্রাণ সরবরাহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারপক্ষ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে মাত্র। বাস্তবে সংঘর্ষ ও তাণ্ডবের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা দেখার জন্য অনেক দিন অপেক্ষা করতে হবে। কারণ ধর্মের নামে সংঘাত, তাণ্ডব, দুষ্কর্ম প্রভৃতি বিষয়ে সরকার বরাবরই একটি নির্জীব সত্তা। আগের অনেক ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের ব্যবস্থা তারা করতে পারেনি। পারলে প্রায়ই এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

ওয়াজ মাহফিল নিয়ে জৈন্তাপুরের কওমি মাদরাসাগুলোয় মতপার্থক্য রয়েছে। প্রায়ই তা সাংঘর্ষিক বিরোধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পক্ষগুলো যাতে সংঘর্ষে না জড়ায় সে জন্য উপজেলা প্রশাসন অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসনে ন্যস্ত হয়। তারাও যে সুরাহা করে উঠতে পারেনি সোমবারের ঘটনা তার প্রমাণ। জৈন্তাপুর তথা সিলেটেই নয়, সারা দেশেই ধর্মের বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। মতভেদ থাকা অন্যায় নয়; তবে সাংঘর্ষিক হয়ে দাঁড়ালে, দুষ্কর্মের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ালে, জনজীবনে অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালে একে স্বাগত জানানো যায় না। বরং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়াই যুক্তিযুক্ত। ধর্মকে মানবমুক্তির সহায়ক বিষয় ভাবতে হলে সরকারকে প্রকৃত অর্থেই ধর্মনিরপেক্ষ হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ভিন্নমতসহিষ্ণু হতে হবে। দুর্বৃত্তপনাকে ধর্মের নামে ছাড় দেওয়ার ফল কখনো ইতিবাচক হয় না।

 


মন্তব্য