kalerkantho


জাল সনদে পুলিশে চাকরি!

তদন্ত করে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিন

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জন্য এক গৌরবের বিষয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁদের জন্য মাসোয়ারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেকোনো সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য ৩০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত থাকে। এসব পদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় কাউকে পাওয়া না গেলে পদ শূন্য থাকে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তির সুযোগ রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের নাতিরা এ সুযোগ পেয়ে থাকে। মুক্তিযোদ্ধা কোটায় এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের চাকরির সুযোগ রয়েছে। আর এ সুযোগটিই কাজে লাগাচ্ছে একটি শ্রেণি। মাসোয়ারাপ্রাপ্তদের তালিকায় যেমন অমুক্তিযোদ্ধাদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ আছে, তেমনি চাকরি কোটাতেও অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি পাওয়ার অভিযোগ আছে। এবার অভিযোগ উঠেছে, খোদ পুলিশ বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে। নকল বা জাল মুক্তিযোদ্ধা সনদ দিয়ে শতাধিক কনস্টেবল নিয়োগের অভিযোগ পেয়ে এসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে। মুক্তিযোদ্ধা সনদ জালিয়াতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পাঠানো সেই চিঠিতেও জালিয়াতি করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরে। খবরে বলা হচ্ছে, মূল চিঠি গায়েব করে জালিয়াতচক্র তাদের অনুকূলে তথ্য ব্যবহার করে তা ফের উপস্থাপন করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে সচিবালয়ের পত্র গ্রহণ শাখা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে। বিষয়টি এখন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ শাখার তদন্তাধীন। পুলিশ কনস্টেবল পদে সনদ জালিয়াতির এই সুযোগ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই করে দিয়েছে বলে প্রতীয়মান। শর্ত অনুযায়ী অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির জন্য আগেই সনদ যাচাই করে নিতে হয়। কিন্তু পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে সেই শর্ত শিথিল করা হয়। নিয়োগের পর সনদ যাচাই-বাছাই করে ভুয়া প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতিসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের শর্তে চাকরি দেওয়া হয়। এই সুযোগটি নিয়েই জাল সনদ দেওয়া হয়।

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে দুর্নীতি প্রতিরোধ—সব ক্ষেত্রেই পুলিশকে কাজ করতে হয়। সেই পুলিশের চাকরির ক্ষেত্রেই যদি জাল সনদ ব্যবহার করা হয়, তাহলে এই পুলিশের কাছ থেকে জাতি কী আশা করতে পারে। জাল সনদ দিয়ে যারা চাকরিতে যোগদান করবে, তারা তো চাকরিজীবনে দুর্নীতিমুক্ত থাকতে পারবে না। সমাজের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের কাছ থেকে কি ভালো কিছু আশা করা যাবে? অবিলম্বে এই জালিয়াতির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। জালিয়াতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে চিহ্নিত করে তাদের বিচার ও উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।



মন্তব্য