kalerkantho


রাজধানীতেও মাদকের হাট

ধ্বংসের এই পথ বন্ধ হোক

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অপরাধবিজ্ঞানীরা মাদকের ক্রমবর্ধমান বিস্তারকে দেশে নানা ধরনের অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন। মাদকের বিস্তার নিয়ে পত্রপত্রিকায় প্রতিনিয়ত খবরাখবর প্রকাশিত হচ্ছে। কিন্তু ‘অত্যন্ত লাভজনক’ এই ক্ষেত্রটি নিয়ন্ত্রণ করতে কেন জানি পুলিশের আগ্রহের বড় বেশি অভাব দেখা যায়। ফলে সারা দেশেই মাদকের বিস্তার ক্রমে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে। অনেক জায়গা থেকেই মাদকের হাটবাজার বসার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি রাজধানীতেও মাদকের এমন বেশ কিছু হাটবাজারের খবর এসেছে গতকাল শনিবারের কালের কণ্ঠ পত্রিকায়। এসব হাটবাজারের মধ্যে রয়েছে মতিঝিলের ওহাব কলোনি, খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়া, টিটিপাড়া বস্তি, রামপুরা ও বাসাবো এলাকার কয়েকটি স্থান। এ ছাড়া মিরপুর, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁওসহ ঢাকার বেশ কিছু এলাকায় এমন হাটবাজার থাকার খবর পাওয়া যায়, যেখানে প্রায় প্রকাশ্যেই মাদকের বেচাকেনা চলে। এসব এলাকায় পুলিশের সোর্স হিসেবে কথিত ব্যক্তিদের যথেষ্ট প্রভাব ও নিয়ন্ত্রণ রয়েছে বলে জানা যায়। অভিযোগ আছে, তাদের মাধ্যমে মাদক কারবারের লাভের অংশ পুলিশের অনেক কর্তার পকেটেও চলে যায়। আর সে কারণেই এসব হাটবাজারে পুলিশের হস্তক্ষেপ খুব একটা হয় না।

অনেক অভিভাবকই তাঁদের উঠতি বয়সের সন্তানদের নিয়ে রীতিমতো শঙ্কায় থাকেন, কখন না সঙ্গদোষে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। মাদকাসক্তরা পরিবার ও সমাজে অশান্তির কারণ হয়ে উঠছে। মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহসও হয় না সাধারণ মানুষের। প্রতিবাদ করতে গিয়ে অনেককে জীবনও দিতে হয়েছে, নানাভাবে নাজেহাল হতে হয়েছে। প্রকাশিত খবরেও তেমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। অপরাধবিজ্ঞানীরা মনে করেন, পুলিশ চাইলে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করা মোটেও কঠিন কাজ নয়। কারণ কারা কোথায় কিভাবে মাদক বিক্রি করছে, তা পুলিশের অজানা নয়। পুলিশ চাইলেই তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। সাধারণ মানুষেরও ধারণা তেমনই। তাই মাদক কারবারিদের হামলায় আহত-নিহতদের পরিবারের অনেকেই থানায় মামলা পর্যন্ত করতে যান না। প্রকাশিত খবরেও দেখা যায়, গুরুতর আহত ফরহাদ হোসেনের বাবা থানায় মামলা করেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক এমনও বলেছেন, এলাকায় প্রকাশ্যেই মাদক বিক্রি হয়। পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো লাভ হয় না, বরং বিপদ হয়। মাদক কারবারিরা কিভাবে যেন অভিযোগকারীর নাম-ঠিকানা পেয়ে যায়। তখন উল্টো নাজেহাল হতে হয়। অবস্থা এমন হলে সারা দেশে মাদকের এই বিস্তার ঠেকাবে কে?

তারুণ্য যেকোনো দেশের প্রধান শক্তি। সেই তারুণ্য যদি এভাবে ধ্বংসের পথে এগিয়ে যায় তাহলে এ দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করতে হবে। সরকারের কর্তাব্যক্তিরা বিষয়টি গভীরভাবে চিন্তা করবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।



মন্তব্য