kalerkantho


সড়ক দুর্ঘটনা বাড়ছেই

প্রতিকারে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

১৫ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



দেশে যানবাহনের সংখ্যা বেড়েছে। সড়ক-মহাসড়কের আধুনিকায়নও হয়েছে। সড়ক নিরাপত্তায় ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা, রোড শো হয়েছে। বিআরটিএ সড়ক নিরাপত্তা ইউনিট গঠন করেছে। ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রি হুইলার অটোরিকশা, নছিমন-করিমন চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বেশ কয়েকটি মহাসড়কে চার লেন চালু হয়েছে, স্থাপন করা হয়েছে সড়ক বিভাজক। নির্মিত হয়েছে আন্ডারপাস-ওভারপাস। ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযানও চালানো হয়। কিন্তু এর পরও সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাবে ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে দেশে সড়ক দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে। বেড়েছে দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যাও। সংগঠনটির হিসাব অনুযায়ী ২০১৬ সালে চার হাজার ৩১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ছয় হাজার ৫৫ জন নিহত এবং ১৫ হাজার ৯১৪ জন আহত হয়েছিল। ২০১৭ সালে চার হাজার ৯৭৯টি দুর্ঘটনায় সাত হাজার ৩৯৭ জন নিহত এবং ১৬ হাজার ১৯৩ জন আহত হয়েছে। ২০১৬ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে দুর্ঘটনা বেড়েছে ১৫.০৫ শতাংশ, নিহতের সংখ্যা বেড়েছে ২২.২ শতাংশ, আহতের সংখ্যা বেড়েছে ১.৮ শতাংশ। যাত্রী কল্যাণ সমিতি হিসাবটি করেছে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে। অবশ্য অনেক দুর্ঘটনার খবরই সংবাদমাধ্যমে আসে না। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকের ভিন্ন পরিসংখ্যান রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, সড়ক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতিবছর ২১ হাজার প্রাণহানি ঘটছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বছরে প্রাণহানি ১২ হাজার।

নানা কারণেই সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনা ঘটে। চালকদের বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চালানোর পাশাপাশি বিপজ্জনক ওভারটেকিং, রাস্তাঘাট নির্মাণে ত্রুটি, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, গাড়ি চালানো অবস্থায় মোবাইল বা হেডফোনের ব্যবহার, চালকদের মাদক সেবনসহ নানা কারণেই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। আবার যাত্রী ও পথচারীদের অসতর্কতাও অনেক দুর্ঘটনার কারণ। এ বিষয়গুলো নিয়ে এখনই না ভাবলে সড়ক দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না। যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির পাশাপাশি চালকের সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু কারা যানবাহনের স্টিয়ারিং ধরছে সে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু গাড়ি চালানো শিখলেই তাকে চালক বলা যাবে না। ট্রাফিক আইন ও সিগন্যাল, সড়কের সংকেতগুলো সম্পর্কেও একজন চালককে সম্যক জ্ঞাত থাকতে হবে। অভিযোগ আছে, টাকার বিনিময়ে প্রশিক্ষণবিহীন অনেকের হাতেই লাইসেন্স ধরিয়ে দেওয়া হয়। এর চেয়ে বড় অপরাধ আর নেই। সেই সঙ্গে আছে ভুয়া লাইসেন্সও। কড়া হাতে সব নিয়ন্ত্রণ করা গেলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ অনেকটাই সম্ভব হতো বলে আমরা মনে করি।



মন্তব্য