kalerkantho


নির্বাচনই বড় ইস্যু

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা কাম্য

৬ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



নির্বাচনই বড় ইস্যু

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন যদি স্থিতিশীল থাকে, তার প্রভাব পড়ে সর্বত্র। উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয় না। অর্থনীতির চাকা গতিশীল থাকে। ২০১৭ সালে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন স্থিতিশীল থাকায় ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে রপ্তানি আয়ে। নতুন বছর শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক অঙ্গন নিয়ে মানুষের মনে কিছুটা হলেও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কারণ বছরটি নির্বাচনের বছর। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে নতুন বছরে। আর বছরের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এবারের নির্বাচনে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগকে। দলের প্রস্তুতি সম্পর্কে যে খবর পাওয়া যাচ্ছে, তা থেকে ধারণা করা যেতে পারে, আওয়ামী লীগ এরই মধ্যে দলীয় তৎপরতা বাড়াতে শুরু করেছে। বিএনপিকে নির্বাচনে আনা নয়, নির্বাচনের মাঠে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করাই এখন আওয়ামী লীগের মূল চিন্তা বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেবে বিএনপি। তবে নতুন বছর নিয়ে বিএনপির ভেতরেও শঙ্কা কাজ করতে পারে। কারণ নির্বাচনকালীন সরকার প্রশ্নে সরকার ছাড় দেবে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। তেমন পরিস্থিতি দেখা দিলে শেষ পর্যন্ত বিএনপি কঠোর আন্দোলনে যাবে কি না সে বিষয়টিও আলোচিত হচ্ছে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলে। বিএনপি যদি দাবি আদায়ের মাধ্যম হিসেবে রাজপথের আন্দোলনের পথ বেছে নেয়, তাহলে পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে, তা নিয়েও জনমনে আশঙ্কা আছে। এখন একটি বিষয় সবার সামনে পরিষ্কার হয়ে গেছে, বিএনপির নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার বা সহায়ক সরকারের দাবি উপেক্ষিত হবে। ক্ষমতাসীন দল যে বিএনপিকে কোনো ছাড় দেবে না, তা স্পষ্ট। তখন কী করবে বিএনপি? সর্বশক্তি নিয়ে মাঠে নামবে? শঙ্কাটা এখানেই।

রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই। দেশের প্রধান দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানেরও কোনো বিকল্প নেই। স্বাভাবিকভাবেই বছরটি যে নির্বাচনী উত্তাপে কাটবে সেটাই স্বাভাবিক। সরকারের উচিত হবে, যতটা সম্ভব সহনশীল আচরণ করা। অন্তত সরকারের কারণে যেন নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। বিএনপিকেও আসতে হবে অংশগ্রহণমূলক মনোভাব নিয়ে। অন্যথায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান অসম্ভব হয়ে পড়বে। রাজনৈতিক দলগুলো তাদের দায় ও দায়িত্ব সম্পর্কে জেনে-বুঝে রোডম্যাপ তৈরি করলে যেকোনো সমস্যার সমাধান সম্ভব। আমরা সব রাজনৈতিক দলের কাছ থেকেই দায়িত্বশীল আচরণ আশা করি। গত বছরের মতো চলতি বছরও রাজনৈতিক অঙ্গন স্থিতিশীল থাকবে—এ প্রত্যাশা সবার।



মন্তব্য