kalerkantho

নতুন শঙ্কা আসামে

ভ্রাতৃত্ব ও শান্তি বজায় থাকুক

৩ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



ভারতের আসাম রাজ্যে ‘জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন’ তালিকার প্রথম যে খসড়াটি রাজ্য সরকার প্রকাশ করেছে, তাতে তিন কোটি ২৯ লাখ নাগরিকের মধ্যে এক কোটি ৯০ লাখ মানুষের নাম স্থান পেয়েছে। রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া জানিয়েছেন, বাকি নাম পরে ঘোষণা করা হবে। অনেকের ধারণা, তালিকাটি করাই হচ্ছে আসামে কথিত অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত ও বিতাড়নের লক্ষ্যে। মূলত মুসলমানরাই এ তালিকার যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে। তাতেই দেখা দিচ্ছে নতুন শঙ্কা। প্রকাশিত তালিকায় এআইইডিএফের প্রধান সাংসদ বদরুদ্দিন আজমল ও তাঁর দুই ছেলের নাম নেই। রূপহীহাটের বিধায়ক নুরুল হুদা ও তাঁর পরিবারের পাঁচ সদস্যের নাম বাদ পড়েছে। নাম নেই গৌরীপুরের বিধায়ক নিজানুর রহমান ও ধুবড়ির বিধায়ক নজরুল হকের। সংখ্যালঘু ছাত্রসংগঠন আমসুর সভাপতি আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আইনুদ্দিন আহমদের নামও খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। বাদ পড়েছে অনেক আমলা, এমনকি জেলা প্রশাসকের নামও। বলা হচ্ছে, যাচাই করে সবার নামই তালিকায় তোলা হবে। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ের পর যদি বাদ পড়াদের ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়, তাহলে রোহিঙ্গা সংকটের মতো নতুন কোনো সংকট মোকাবেলা করতে হতে পারে বাংলাদেশকে। অবশ্য এই প্রক্রিয়াটি ভারতের বহুত্ববাদী রাষ্ট্র ও সমাজব্যবস্থার সম্পূর্ণ বিপরীত। মহাত্মা গান্ধী সব সময় ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির পথ থেকে সরে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন। নিজের আন্দোলনে সবার আগে শামিল করতেন দলিত ও অন্ত্যজদের। মুসলমানদের জন্য সদা প্রসারিত ছিল তাঁর আশ্রয়। ধর্মনিরপেক্ষতা, সর্বজনীন ন্যায়বিচার, নাগরিকের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে বহুত্ববাদ, তা কি শেষ পর্যন্ত মিথ্যা প্রমাণিত হবে আসামে?

১৯৫১ সালের পর এই প্রথম আসাম রাজ্যে নাগরিকদের তালিকা হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে আন্দোলনের মুখে আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন ও ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তিতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে আসামে যাওয়া নাগরিকদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা উল্লেখ ছিল। শর্ত ছিল ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর যাওয়া ব্যক্তিদের বিতাড়িত করতে হবে। পুরনো সেই ইস্যুটিই নতুন করে রাজনীতির অনুষঙ্গ হয়েছে। আসামে নাগরিকদের এই তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হওয়ায় বাংলাদেশের আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণও আছে। বাংলাদেশ ও ভারত নিকট প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত। এই সীমান্ত এলাকায় অনেক সময় উত্তেজনা দেখা দেয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে রক্তের বন্ধন, তা কোনোভাবেই যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। বাংলাদেশের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দেয়, এমন কোনো সিদ্ধান্ত ভারত কখনো নেবে না, এমনটি আমরা নিশ্চয় আশা করতে পারি।

 


মন্তব্য