kalerkantho


অনশনে নন-এমপিও শিক্ষকরা

সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিন

২ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরণ অনশনে গেছেন বেসরকারি শিক্ষকরা। গত মঙ্গলবার থেকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন তাঁরা। রবিবার থেকে শুরু করেছেন আমরণ অনশন। অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ২০১০ সাল থেকে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি বন্ধ থাকলেও সরকারের অনুমতি নিয়ে গড়ে উঠেছে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমন পাঁচ হাজার ২৪২ নন-এমপিও প্রতিষ্ঠানের ২০ লাখের মতো শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক। তাঁদের নির্ধারিত কোনো বেতন-ভাতা নেই। স্বাভাবিকভাবেই পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন তাঁরা। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি নিয়ে জাতীয় সংসদেও কথা হয়েছে। কিন্তু বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। শনিবার জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনেও এ বিষয়ে কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু কোনো সুরাহা দিতে পারেননি তিনি। তাঁর কণ্ঠেও অসহায়ত্বের সুর। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। এমপিওভুক্তির সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও অর্থছাড়ের বিষয়টি জড়িত। তিনি বিষয়টি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেও কোনো সমাধানে আসতে পারেননি। আগামী বাজেটে এ বিষয়ে নতুনভাবে অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, শিক্ষকদের আশ্বস্ত করতে চেয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। কিন্তু আন্দোলনরত নন-এমপিও শিক্ষকরা শিক্ষামন্ত্রীর এ আশ্বাস মানতে নারাজ। তাঁদের মতে, এমন কথা আগেও বলা হয়েছে, কোনো কাজ হয়নি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি নীতিনির্ধারণী বিষয়। এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যেমন কিছু শর্ত পূরণ করতে হয়, তেমনি এসব প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতেও নিয়ম মানতে হয়। এটাও ঠিক যে অনেক প্রতিষ্ঠান শুধু রাজনৈতিক বিবেচনা ও প্রভাবে গড়ে উঠেছে। কিন্তু এসব প্রতিষ্ঠানেরও অনুমতি নিতে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছে। ন্যূনতম মান নিশ্চিত করতে পেরেছে বলেই এসব প্রতিষ্ঠানের সনদ নবায়ন হয়েছে। তাহলে শিক্ষকদের দোষ কোথায়? তাঁদের কেন বেতন-ভাতার বাইরে রাখা হবে? বিষয়টি সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি রাখে। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে শিক্ষকরা দিনের পর দিন আন্দোলন করবেন—এটা তো হতে পারে না। এর একটা সম্মানজনক সমাধান হওয়া প্রয়োজন। সরকারের নীতিনির্ধারণী মহল থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা সমাধানের পথনির্দেশ করতে পারে বলে আমরা মনে করি। সংকট উত্তরণে সরকারের সদিচ্ছার কোনো বিকল্প নেই।

 



মন্তব্য