kalerkantho

স্বাগত নতুন বছর

শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাক দেশ

১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



স্বাগত নতুন বছর

গ্রেগরিয়ান বা ইংরেজি বর্ষপঞ্জি থেকে বিদায় নিল ২০১৭ সাল। শুরু হলো আরেকটি নতুন বছর, ২০১৮ সাল। পুরনো বছরে যেমন ব্যর্থতা ছিল, তেমনি ছিল অনেক সাফল্যও। সেসব সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়েই শুরু হলো নতুন যাত্রা। শুভ হোক, সুন্দর হোক সব কিছু—এই প্রত্যাশায় বরণ করছি নতুন বছরকে। স্বাগত ২০১৮।

আগের বছরের মতোই রাজনৈতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিরাজ করেছে ২০১৭ সালেও। অবকাঠামো উন্নয়নে অনেক বড় বড় কাজ হয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রো রেলের মতো মেগা প্রজেক্টের কাজও দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সামুদ্রিক বন্দর পায়রায় বিশাল বিশাল স্থাপনা তৈরি হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক চার লেন করা হয়েছে। রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলেছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ১৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনের কাজ এগিয়ে চলেছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। টানা দুই বছর প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ শতাংশের ওপর। গত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ। মাথাপিছু আয় এক হাজার ৬০০ ডলার ছাড়িয়েছে। বিদেশি বিনিয়োগ ক্রমেই বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই-অক্টোবর) সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বা এফডিআই এসেছে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার, যা এক দশক আগে বছরেও আসত না। পরিস্থিতি ভালো হওয়ায় দেশি বিনিয়োগকারীরাও এখন বেশি পরিমাণে বিনিয়োগে আসছেন। ফলে কর্মসংস্থানের উন্নতি হচ্ছে, বেকারত্ব কমে আসছে এবং দারিদ্র্যের হার কমছে। একদিন যারা বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ বলে অবজ্ঞা করত, তারাই আজ বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থা ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশসহ ‘নেক্সট ইলাভেন’ভুক্ত দেশগুলোর অর্থনীতি ইউরোপের ২৭ দেশের অর্থনীতিকে ছাড়িয়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিনিয়োগ সংস্থা জেপি মর্গান বাংলাদেশকে ‘ফ্রন্টিয়ার ফাইভ’ বা অগ্রগামী পাঁচ দেশের অন্তর্ভুক্ত করেছে। দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের কথা বলে যে বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে সরে গিয়েছিল, সেই বিশ্বব্যাংকও এখন বাংলাদেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ।

আশাহত হওয়ার মতো কিছু কিছু দিকও ছিল গত বছরটিতে। হাওরাঞ্চলসহ অনেক জেলায় দীর্ঘ বন্যার কারণে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রচুর চাল আমদানি করে ঘাটতি মেটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও বছরের শেষ দিনটি পর্যন্ত চালের বাজার বেশির ভাগ মানুষের ব্যাপক অস্বস্তির কারণ হয়েছিল। জঙ্গি কর্মকাণ্ড কিছুটা কমলেও হুমকি পুরোপুরি দূর হয়নি। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও মানুষের দুশ্চিন্তা ছিল। ব্যাংকিং সেক্টরে কিছু বিশৃঙ্খলা দেখা গেছে। দুর্নীতির লাগাম এখনো শক্তভাবে টেনে ধরা যায়নি। সব কিছু ছাপিয়ে দেশের অর্থনীতির জন্য বড় ঝুঁকি বয়ে এনেছে রোহিঙ্গা সমস্যা। এ বছর প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাও ছিল বছরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয়।

নতুন বছরের প্রথম প্রহরে আমাদের অঙ্গীকার হোক আরো সুদৃঢ়। আলোর পথে, প্রগতির পথে আমাদের এগিয়ে চলা আরো বেগবান হোক। সেই সাফল্যের পথে ২০১৮ সাল হোক একটি মাইলফলক। আমাদের পাঠক, গ্রাহক, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের নতুন বছরের শুভেচ্ছা। শুভ নববর্ষ।


মন্তব্য