kalerkantho


ছাত্রলীগের তাণ্ডব

সংগঠনে শুদ্ধি অভিযান জরুরি

৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলন, আমাদের বড় ঐতিহাসিক সব অর্জনে ছাত্ররাজনীতির অবদান অস্বীকার করা যাবে না। কিন্তু আজকের ছাত্ররাজনীতি কি সেই পথে চলছে? বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী ছাত্রসংগঠনটি কি নিজেদের অতীত ঐতিহ্যের কথা একটুও মাথায় রেখেছে? নিজেদের মধ্যে কোন্দল আর সংঘর্ষ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তাদের কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে হচ্ছে।

গণধর্ষণের হুমকির বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে অধ্যক্ষের কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন শেষে ফেরার পথে ছাত্রলীগের হামলার শিকার হয়েছে রাজশাহী ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির ছাত্রীরা। আটজন ছাত্রী আহত হয়েছে সে ঘটনায়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ওদিকে নানা বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর আগে গত বুধবার সংগঠনের দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর কেন্দ্র থেকে কমিটি স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল।  

ছাত্ররাজনীতির গৌরবময় অতীত এখন শুধুই স্মৃতি। এখন বোধ হয় মেধাবীরা ছাত্ররাজনীতি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। অথচ একসময় ছাত্ররাজনীতিতে মেধাবীদেরই দেখা যেত। এখন ছাত্ররাজনীতিতে পেশিশক্তির জয়জয়কার।

টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা দলের সহযোগী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগ তো প্রায় অপ্রতিরোধ্য। দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না। কিন্তু ছাত্রলীগ আছে বহাল তবিয়তে। ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন হলে সেই সংগঠন সম্পর্কে প্রচার কিংবা অপপ্রচার দুটিই বেশি হবে। কিন্তু তাদের অপকর্ম যখন সীমা ছাড়িয়ে যায়, তখন? শুধু বর্তমান সরকার নয়, অতীতেও সরকারে থাকা দলের ছাত্রসংগঠনের দৌরাত্ম্য দেখা গেছে। ছাত্ররাজনীতি এখন যেন অনেকটাই লাভজনক বাণিজ্যিক মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বেশির ভাগ ছাত্রসংগঠন চলে গেছে অছাত্রদের দখলে। সংগঠনের কার্যক্রমে কোনো গতিশীলতা নেই। আছে নেতৃত্বের কোন্দল। টেন্ডার কিংবা চাঁদার ভাগাভাগি নিয়ে পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িত হয়ে পড়ছে সংগঠনের নেতাকর্মীরা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কয়েক দফা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেও তাতে কোনো ফল লাভ হয়নি। শেষ পর্যন্ত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করতে হলো। রাজশাহী আইএইচটির ছাত্রীদের কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ। অধ্যক্ষের কাছে নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে ফিরে আসার পথে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, আইএইচটি শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নিজেই এই হামলায় জড়িত ছিলেন। সভাপতিকেও সেখানে ওই সময় উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ছাত্ররাজনীতির ওপর থেকে মানুষের আস্থা উঠে যাবে। ছাত্রলীগ, বিশেষ করে মূল দল রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কাজেই ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরতে হবে এখনই। সংগঠনে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে।


মন্তব্য