kalerkantho


বাজারে সুখবর ধীরগতির

নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারি বাড়ান

১৮ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



অগ্রহায়ণের শুরুতেই ঘরে নতুন ধান উঠতে শুরু করায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। গত বোরো মৌসুমে অতিবৃষ্টি, বন্যা ও ব্লাস্ট রোগে উৎপাদনে যে ঘাটতি দেখা দিয়েছিল, তার জের অনেকটাই আমনে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর এক হিসাবে বলা হয়েছে, গত অর্থবছর বোরো মৌসুমে ১৮৯ দশমিক ৩৭ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছিল। আর এবার বন্যার কারণে তা কমে হয়েছে ১৮০ দশমিক ১৩ লাখ মেট্রিক টন। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২২ দশমিক ৮৮ লাখ মেট্রিক টন আউশ ধান উৎপাদিত হয়েছিল। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে তা ২১ দশমিক ৩৩ লাখ মেট্রিক টনে নেমে আসে। তবে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আমন উৎপাদন বেড়েছে। আগের অর্থবছরে ১৩৬ দশমিক ৫৬ লাখ মেট্রিক টন আমন উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের অর্থবছর ছিল ১৩৪ দশমিক ৮৩ লাখ মেট্রিক টন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী এ বছর সারা দেশে ৫৩ লাখ পাঁচ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল। চাষ হয়েছে আরো ৬০ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কৃষকরা বেশি করে আমন লাগিয়েছে।

এবার যেকোনো ফসলের চেয়ে আমনের ফলন ভালো হবে। ধান মাত্র উঠতে শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, আমন ফলনের প্রভাব বাজারে পড়বে। চালের দাম কমবে। যদিও এখনো বাজারে চালের দাম সাধারণের আয়ত্তের বাইরে রয়ে গছে। গত পাঁচ মাসে মোটা চালের দাম কেজিতে চার থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত কমেছে। আমনের ভালো ফলনের পাশাপাশি আমদানির ওপর এবারও নির্ভর করতে হবে। শুল্ক উঠিয়ে দেওয়ার পর বেসরকারি খাতে গত চার মাসে ১২ লাখ ৮২ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। আরো ২৫ লাখ ৮২ হাজার টন চাল আমদানির জন্য ব্যবসায়ীরা ঋণপত্র খুলেছে। এর মধ্যে ১৩ লাখ ১৩ হাজার টন চাল আমদানির ঋণপত্র চূড়ান্ত হয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আমনের ফলন কিংবা আমদানির ওপর ভরসা করে বসে থাকলে চলবে না। নিয়মিত বাজার তদারকি না করলে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।

শুধু চাল নয়, বাজারে অন্যান্য পণ্যের সরবরাহ বেড়েছে। আসতে শুরু করেছে শীতের আগাম সবজি। পেঁয়াজ, মাছসহ অন্যান্য পণ্যের দামও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের আয়ত্তের বাইরে রয়েছে অনেক পণ্য। দেশের বাজার ব্যবস্থাপনা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, কৃষকের হাত থেকে যখনই কোনো পণ্য মধ্যস্বত্বভোগীদের হাতে চলে আসে তখনই দাম বাড়তে শুরু করে। এ ব্যবস্থা ভেঙে দিতে না পারলে বাজার নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে।


মন্তব্য