kalerkantho


দরিদ্র তালিকার দরিদ্রদশা

শুমারির ত্রুটিবিচ্যুতি দূর করা হোক

১১ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দরিদ্র মানুষকে সহায়তা করার বেশ কিছু কর্মসূচি রয়েছে। কিন্তু দরিদ্রদের তালিকা করা নিয়েই রয়েছে নানা প্রশ্ন।

অভিযোগ রয়েছে, অনেক প্রকৃত দরিদ্র মানুষই এ তালিকার বাইরে থেকে যায়, সুবিধা নেয় দরিদ্র নয় এমন অনেকে। এ ক্ষেত্রে দলীয় রাজনীতির অপপ্রয়োগ হয় বলেও অভিযোগ আছে। তাই বিশ্বব্যাংকের ঋণ সহায়তায় সরকার একটি পরিচ্ছন্ন তালিকা প্রণয়নের উদ্যোগ নেয়। ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ন্যাশনাল হাউসহোল্ড ডাটা বেইস (এনএইচডি) বা খানাজরিপ শুমারির সে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। কিন্তু সেখানেও অনেক ফাঁক থেকে যাচ্ছে। গতকাল কালের কণ্ঠে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, অতি দরিদ্র অনেকেই থেকে যাচ্ছে তালিকার বাইরে। তালিকায় নাম ওঠা দূরে থাক, অনেক এলাকার মানুষ জানেই না এ রকম একটি শুমারি করা হচ্ছে। শুমারি সম্পর্কে কোনো প্রচারই হয়নি সেসব এলাকায়। বিবিএসের কোনো জরিপকারীও যাননি তাদের বাড়িতে। জরিপকারীদের যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। নতুন তালিকাও যদি আগের তালিকার মতোই ত্রুটিপূর্ণ হয়, তাহলে এত বিপুল ব্যয়ে নতুন শুমারি করে লাভ কী!

শুমারি সফল করার জন্য কিছু কাজ ভাগ করে দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে আছে শুমারির প্রচার ও প্রশিক্ষণ। জানা যায়, টেন্ডারের মাধ্যমে প্রচারসংক্রান্ত কাজটি পেয়েছিল ডেভেলপমেন্ট ডিজাইন কনসালট্যান্সি (ডিডিসি) নামের একটি প্রতিষ্ঠান এবং প্রশিক্ষণের কাজটি পেয়েছিল ঠেঙ্গামারা মহিলা সবুজ সংঘ (টিএমএসএস) নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। প্রচারে ব্যয় ধরা হয়েছিল ২০ কোটি টাকা এবং প্রশিক্ষণে ব্যয় ছিল ৪০ কোটি টাকা। জানা যায়, সংশ্লিষ্ট কাজে দুটি প্রতিষ্ঠানের কোনোটিরই যথেষ্ট পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। তাই প্রাথমিকভাবেই প্রকল্পের অগ্রগতি হোঁচট খেয়েছে। প্রকল্পের লক্ষ্য অর্জন নিয়েই সন্দেহ দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকও কাজের অগ্রগতি নিয়ে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে। তাহলে যথেষ্ট খোঁজখবর না নিয়ে অভিজ্ঞতাহীন দুটি প্রতিষ্ঠানকে এমন গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দেওয়া হলো কেন?

সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় দুস্থ ও দরিদ্রদের বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করা রাষ্ট্রের একটি মৌলিক দায়িত্ব। সে কারণেই প্রতিবছর বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু গোড়ায়ই যদি গলদ থেকে যায়, তাহলে এর উদ্দেশ্য অর্জিত হবে কিভাবে? ত্রুটিপূর্ণ তালিকার কারণে প্রকৃত দুস্থ ও দরিদ্ররা রাষ্ট্রীয় সহায়তার বাইরে থেকে যাবে এবং কিছু সুবিধাবাদী লোক সেই সহায়তা চেটেপুটে খাবে—এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা চাই, প্রকল্পের অবশিষ্ট সময়ে শুমারির ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো দূর করে একটি নির্ভুল তালিকা করা হোক, যাতে প্রকৃত দুস্থ ও দরিদ্ররাই রাষ্ট্রের সহায়তা পেতে পারে।


মন্তব্য