kalerkantho


দুর্নীতি সর্বগ্রাসী হয়ে উঠছে

সর্বাত্মক অভিযানে নামুন

১৬ জুন, ২০১৭ ০০:০০



সর্বগ্রাসী দুর্নীতি বাংলাদেশের সব উন্নয়ন প্রচেষ্টাকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। হাওরে বাঁধ নির্মাণের জন্য প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা দেওয়া হয়। বাঁধের নামে যা করা হয়, আগাম বর্ষার এক ধাক্কায় তা উবে যায়। প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা খরচ করে রাস্তা মেরামত, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। কয়েক মাস না যেতেই সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। সরকারি ভবন নির্মাণে রডের বদলে বাঁশও ব্যবহূত হয়। এতে উন্নয়নের পুরো টাকাটাই গচ্চা যায়। সরকারি অফিসগুলোতে ঘুষ ছাড়া কাজ হয় না, এটা ওপেন সিক্রেট। ফিটনেসহীন গাড়ি ঘুষ দিয়ে ফিটনেস পায়, অদক্ষ চালক ড্রাইভিং লাইসেন্স পায়। এরপর রাস্তায় নেমে মানুষ মারে। সরকারি কেনাকাটায়ও চলে দুর্নীতি। সবচেয়ে বেশি দামে সবচেয়ে খারাপ গম আমদানির পর কেউ নিতে চায় না। এভাবে আর কত দিন চলবে? দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদকের চেয়ারম্যান দুর্নীতির ব্যাপকতা স্বীকার করে একে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ভুটানের দুর্নীতি দমন কমিশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করার অনুষ্ঠানে গত বুধবার তিনি বলেছেন, দেশে প্রতিবছর জিডিপির ২ থেকে ৩ শতাংশ খেয়ে ফেলছে দুর্নীতি। গত অর্থবছরে দেশে জিডিপির আকার ছিল ১৯ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। ৩ শতাংশ হলে দাঁড়ায় প্রায় ৫৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু প্রকৃত ক্ষতি তার চেয়ে অনেক বেশি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তখন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে ধস নামে। মাদক, চোরাচালান, খুনখারাবি, ডাকাতি-ছিনতাই বেড়ে যায়। তার ক্ষতি কে হিসাব করবে?

দুদক সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতি দমনে বেশ কিছু প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে। কিছু রাঘব বোয়াল দুর্নীতিবাজকেও আইনের আওতায় আনতে পেরেছে। এর পরও দুদকের এ প্রচেষ্টা ঝিনুক দিয়ে সাগরের পানি সেচের মতো। দুদককে গা ঝাড়া দিয়ে নামতে হবে। প্রয়োজনে দুদকের লোকবল ও রসদ বাড়াতে হবে। মুদ্রাপাচার, আন্ডার ও ওভার ইনভয়েসিং ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বাড়াতে হবে। দুদককর্মীদের আন্তরিকতা ও সংকল্প নিয়ে কাজ করতে হবে। গতকালের কালের কণ্ঠে ‘যেন টাকার মেশিন!’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন রয়েছে। বরগুনা সওজের একজন উপসহকারী প্রকৌশলী, যিনি সার্ভেয়ার হিসেবে চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন এবং অনেক দিন সে কাজই করেছেন, এখন তিনি ঢাকা ও ঢাকার বাইরে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট, বাড়ি ও গাড়ির মালিক বনে গেছেন। ২৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি বেতন পেয়েছেন ২৫ লাখ টাকা অথচ এখন তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৩০ কোটি টাকারও বেশি। এমন দৃষ্টান্ত বহু। দুদককে পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন ধরে সরেজমিনে গিয়ে অনুসন্ধান চালাতে হবে। দেশ থেকে দুর্নীতির বিষবৃক্ষ নিধনে দুদক সফল হবে, এমন প্রত্যাশা আমাদের সবার।



মন্তব্য