kalerkantho


অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে

আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজর দিন

২১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কি ভেঙে পড়ছে? না হলে প্রতিদিন এত খুনখারাবি-রাহাজানির ঘটনা ঘটছে কেন? রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও সন্ত্রাসীরা তত্পর। সামান্য কথা-কাটাকাটি নিয়েও ঘটছে খুনের ঘটনা। চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, খুন-ধর্ষণ ও অপহরণ যেন নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে গিয়ে কোথাও কোথাও ভাড়াটে খুনিদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে। গত কয়েক দিনের অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে, সমাজ কি দিন দিন অপরাধপ্রবণ হয়ে উঠছে? ঢাকার কেরানীগঞ্জে সড়কের পাশ থেকে নিখোঁজ দিনমজুরের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ক্ষেতের ওপর দিয়ে পানি ছাড়াকে কেন্দ্র করে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। অপহরণের দুই দিন পর চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রীর লাশ মিলেছে বাড়ির পাশের কলাবাগানে। রাজবাড়ী সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও বেধড়ক মারপিট করার খবর এসেছে সংবাদপত্রে। গণধর্ষণের এক সপ্তাহ পর বিচারিক আদালতে জবানবন্দি দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে শাশুড়ি, ছেলেসহ এক গৃহবধূ অপহৃত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলায় তিন মাদরাসা ছাত্রীকে দুই দফা অপহরণের চেষ্টা হয়েছে বলে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে। মেহেরপুরে রাস্তায় গাছ ফেলে বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে রাতভর ডাকাতি করা হয়েছে। আরো অনেক ঘটনাই ঘটেছে গত কয়েক দিনে।

এসব ঘটনাই বলে দেয় অপরাধপ্রবণতা কোন মাত্রায় গেছে। সমাজকে কোনোভাবেই কি এসব অপরাধ থেকে মুক্ত করা সম্ভব নয়? সামাজিক অপরাধের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে পারিবারিক অপরাধও বেড়ে যাবে। সমাজ ও পরিবার একে অন্যের পরিপূরক। পারিবারিক বন্ধন শিথিল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক মূল্যবোধগুলোও যেন হারিয়ে যেতে বসেছে। নানামুখী অবক্ষয়ের কারণেই সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। তারই ধারাবাহিকতায় কিশোররাও নেমে পড়েছে খুন-রাহাজানির মতো অপরাধ তত্পরতায়। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে সমাজে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না। এ জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও তত্পর হতে হবে। দেশের আইনি প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতাও অনেক সময় অপরাধীদের উৎসাহিত করে। আবার আইনি প্রক্রিয়ার ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে গিয়ে অপরাধীচক্র নতুন করে অপরাধ করে। অনেক সময় দুর্বল অভিযোগপত্র অপরাধীকে সুরক্ষা দেয়। আইনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, নতুন করে সক্রিয় হয়। এ অবস্থা থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে বের করতে হবে। নাগরিকের জন্য দেশকে নিরাপদ করতে হবে। সবার মধ্যে নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে সামাজিকভাবে। তবে সবার আগে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে অপরাধীদের যথোপযুক্ত শাস্তি। সচেতন মানুষের পাশে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকলে অপরাধ দমন কঠিন হবে না।

দেশের মানুষের মনে নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো সক্রিয় হতে হবে। অপরাধ দমনে তাদের দক্ষতা ও আন্তরিকতার পরিচয় পেতে চায় দেশের মানুষ। আইনের যথার্থ প্রয়োগের মধ্য দিয়েই সন্ত্রাসমুক্ত দেশ গড়ে তোলা সম্ভব।


মন্তব্য