kalerkantho


শ্রমবাজার বন্ধের পাঁয়তারা

সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নিন

১৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



অনেক চেষ্টার পর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার উন্মুক্ত হয়েছে। সরকারিভাবে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানি হয়েছে।

এর আগে সে দেশে অবস্থানকারী প্রায় সাড়ে তিন লাখ বাংলাদেশি নাগরিককে বৈধভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের জন্য এটা বড় সুযোগ। দুই দেশের সরকারের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবস্থা হওয়ায় প্রতারণার কোনো সুযোগ নেই। এই চুক্তির বিষয়টি উন্মুক্ত হওয়ায় নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কম খরচে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে প্রবেশ করতে পারছে বাংলাদেশের জনশক্তি। জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠাতে পারে কেবল নির্দিষ্ট ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সি। এতে অনেক এজেন্সির স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ায় তারা একত্র হয়ে সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানি বন্ধে উঠেপড়ে লেগেছে এই সিন্ডিকেট। একের পর এক রিট করছে আদালতে। গত দুুই মাসে উচ্চ আদালতে শুনানি শেষে খারিজ হয়ে গেছে এমন চারটি মামলা। মামলাকারী অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে লিবিয়াসহ কয়েকটি দেশে কর্মী পাঠানোর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সনদ বাতিল হয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর জন্য রিক্রুটিং এজেন্ট বাছাইয়ে বাংলাদেশের এককভাবে কিছু করার ছিল না। দেশের জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার বৈধ সদস্যদের নামের তালিকা মালয়েশিয়ায় পঠানোর পর সে দেশের সরকার দশটি এজেন্সি বাছাই করে জানিয়ে দেয়, এসব প্রতিষ্ঠানই শুধু মালয়েশিয়ায় লোক পাঠাতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকার বা বায়রার কিছু করার নেই।

বাংলাদেশ থেকে জিটুজি প্লাস পদ্ধতিতে জনশক্তি রপ্তানি শুরু হওয়ার কথা ছিল গত বছর থেকেই। কিন্তু একের পর এক মামলার কারণে তা বিলম্বিত হয়। প্রথম দফায় ১০ মার্চ কর্মীদের একটি দল মালয়েশিয়া গেছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কর্মী পাঠানো সম্ভব না হলে স্বাভাবিকভাবেই তারা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকবে। চাহিদার একটি সহজ বাজার হারাবে বাংলাদেশ। অথচ কয়েক বছর আগেও মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য দেশের কর্মীদের জীবন বাজি রাখতে হয়েছে। ঝুঁকি নিয়ে পাড়ি দিতে হয়েছে সমুদ্রপথ। মালয়েশিয়ায় যেতে গিয়ে অনেককে জীবনও দিতে হয়েছে। দুই সরকারের চুক্তির মধ্য দিয়ে জনশক্তি রপ্তানি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ। গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের চক্রান্তে এই সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলে বড় বাজার হারাবে বাংলাদেশ।

সরকার ও বায়রাকে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। মামলাকারী প্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করে পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে তারা আরো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে। আমরা আশা করব, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সঠিক ব্যবস্থা নেবে।


মন্তব্য