kalerkantho


আনান কমিশনের প্রতিবেদন

রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধান চাই

১৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আনান কমিশনের প্রতিবেদন

প্রায় চার দশক ধরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বোঝা বহন করছে বাংলাদেশ। এই দীর্ঘ সময় ধরে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল এক ধরনের নীরবতা পালন করে আসছিল। অতি সম্প্রতি অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে জাতিসংঘ একটি কমিশন গঠন করে। কমিশনের সদস্যরা বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করেন এবং শরণার্থী রোহিঙ্গা নেতাদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনেকের সঙ্গেই সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। এরই ভিত্তিতে আনান কমিশন একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে। পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে আগস্ট মাসে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ১৫ পৃষ্ঠার একটি অন্তর্বর্তী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এ প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দ্রুত ফিরিয়ে নেওয়া এবং তাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। অন্তর্বর্তী প্রতিবেদনে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে আছে, আন্তর্দেশীয় সন্ত্রাস ও অন্যান্য বিপদ মোকাবেলার জন্য দুই প্রতিবেশী বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার পরিবেশ সৃষ্টি, যৌথ কমিশন গঠন, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব প্রদান, তাদের অবাধ চলাচল ও মিয়ানমারের রাজনীতিতে রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ইত্যাদি।

নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের প্রতিবেদনে উঠে আসা সুপারিশগুলো অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং এগুলো মেনে চললে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি উভয় দেশই লাভবান হবে।

দীর্ঘদিন পর মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে গণতন্ত্র এখনো সেখানে অর্থবহ রূপ পায়নি। আগের মতোই অনেক বিষয়ে সেনাবাহিনীর কর্তৃত্ব দেখা যায়। গত অক্টোবরে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর যে অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে, তারপর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন মতামতই উঠে আসে। শুধু তা-ই নয়, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকারের ভাবমূর্তিও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে থাকে। এই অবস্থায় মিয়ানমার সরকারকে আনান কমিশনের সুপারিশগুলো জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো গণতান্ত্রিক সরকারই বংশপরম্পরায় বসবাস করে আসা একটি জাতিগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব কেড়ে নিতে পারে না, তাদের দেশছাড়া কিংবা ধ্বংসের পথে ঠেলে দিতে পারে না। তেমনটি করা হলে তা হবে সভ্যতাবিরোধী ও সব ধরনের আন্তর্জাতিক রীতিনীতির পরিপন্থী। মিয়ানমারের নেত্রীকে এ ক্ষেত্রে আরো সক্রিয় হতে হবে।

বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, রোহিঙ্গা শরণার্থীরা এখন বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই অনেক কিছু করছে। তাদের অনেকে জঙ্গিবাদের দিকেও ঝুঁকছে। এটি দুই দেশের জন্যই বিপদ ডেকে আনবে। তাই বাংলাদেশেরও উচিত হবে, দ্বিপক্ষীয় আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আনান কমিশনের সুপারিশ ধরে দ্রুত রোহিঙ্গা সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া। পাশাপাশি চার দশক ধরে কয়েক লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশের যে ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে, মিয়ানমারের উচিত হবে সেই ক্ষতি কিছুটা হলেও পূরণ করা। আমরা আশা করি, রোহিঙ্গা সমস্যা খুব শিগগির একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে পাবে।


মন্তব্য