kalerkantho


৪০ বন্ধ স্টেশন চালু

রেলই হতে পারে প্রধান পরিবহনব্যবস্থা

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



দেশের রেলসেবা শুভ সময়ের আভাস দিচ্ছে। অতিসম্প্রতি রেল প্রশাসনে বড় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর এবার বন্ধ স্টেশনগুলোর একটা বড় অংশ চালু করা হয়েছে। আমাদের পরিবহনব্যবস্থায় রেলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার সর্বজনীন দাবিটি কখনো পূরণ হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিপুল বিনিয়োগ হলেও রেলকে লাভজনক করা যায়নি। জনসংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশে যানবাহন বাড়ছে, বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি। রেলওয়ে ব্যবস্থা তুলনামূক নিরাপদ, সময় বাঁচায়, পরিবেশবান্ধব এবং ধারণক্ষমতাও যথেষ্ট বেশি। বিশেষজ্ঞদের মত হচ্ছে, জনসংখ্যার ঘনত্ব ও ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সুবাদে বাংলাদেশে রেলই প্রধান পরিবহনব্যবস্থা হতে পারে। সম্ভাবনার এই জায়গায় আমাদের আন্তরিকভাবে মনোযোগ দিতে হবে।

অতীতে কখনোই রেলের উন্নয়নে সুদৃষ্টি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন রেলে বিনিয়োগে হাহাকার ও লোকবলে স্বল্পতা ছিল। শোনা যায়, এ খাতে নামমাত্র বরাদ্দ দেওয়ার পেছনে সড়কপথের প্রভাবশালীদেরও ষড়যন্ত্র কাজ করে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে রেলে অর্থায়ন বাড়তে থাকে। গত পাঁচ-ছয় বছরে ১০ হাজারের বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। চলছে অবকাঠামোর উন্নয়ন।

সরকার এ খাতে অগ্রাধিকার দিলেও এ নিয়ে কম প্রশ্ন নেই। সেবার মান বৃদ্ধির চেয়ে শুধু অবকাঠামো উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রকল্প নেওয়া থেকে শুরু করে নতুন ট্রেন চালু, এমনকি কোন স্টেশনে ট্রেন থামবে—অনেক কিছুতেই রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। উন্নত বিশ্বে যখন রেলসেবা ক্রমেই গতিশীল হয়, আমাদের দেশে চলে উল্টোটা। উদাহরণস্বরূপ, ঢাকা-চট্টগ্রাম পথে অত্যাধুনিক ট্রেন চালুর পরও দুর্ঘটনার ভয়ে চালক কাঙ্ক্ষিত গতি তুলতে পারেন না; কারণ রেলপথের উন্নয়ন বা সংস্কারের দায়িত্ব যারা পেয়েছিল তারা কাজটি যথাযথভাবে করেনি। টিকিট বিক্রির ব্যবস্থায় তথ্য-প্রযুক্তিসেবা যুক্ত করার পরও কালোবাজারি বন্ধ হয়নি। যাত্রীদেরও অনেকে বিনা টিকিটে ট্রেনে চড়ে টিটিইর হাতে কিছু অর্থ ধরিয়ে দিয়ে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির কারণ হচ্ছে। যেকোনো খাতের উন্নয়নে নীতিনির্ধারণ ও পরিচালনার সঙ্গে জড়িতদের সততা যেমন জরুরি, তেমনি সেবাগ্রহীতাদেরও সৎ থাকতে হয়।

দেশের ৪৬০টি রেলস্টেশনের মধ্যে ১৮৮টি স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। এর মধ্যে সরকার ১৪০টি স্টেশন পর্যায়ক্রমে চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতকাল প্রথম ধাপে ৬০টির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বাকিগুলো দ্রত চালুর ব্যাপারে আন্তরিক থাকতে হবে। রেলওয়ে ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ঘটানো গেলে সড়কপথে চাপ কমবে। আশা করা যায়, এতে নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে সড়ক দুর্ঘটনাও। রেলপথে পণ্য পরিবহনে খরচ কম। খাতটি উন্নত হলে দেশ অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হবে। রেলকে যুগোপযোগী করার যেকোনো চেষ্টা তখনই সফল হবে যখন একে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করা যাবে।


মন্তব্য