kalerkantho


সীতাকুণ্ডে দুই জঙ্গি আস্তানা

গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ান

১৭ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সীতাকুণ্ডে দুই জঙ্গি আস্তানা

জঙ্গিরা যে এখনো শেষ হয়ে যায়নি, তারই প্রমাণ পাওয়া গেল চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে। মাত্র কয়েক শ গজের ব্যবধানে দুটি বাড়িতে বাসা ভাড়া নিয়ে তারা অবস্থান করছিল। তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয় একজন পুলিশে খবর দেয়। গত বুধবার পুলিশ গিয়ে সেই বাড়িতে থাকা দুই জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অন্য বাড়িটিতেও পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে জঙ্গিরা গ্রেনেড হামলা করে। এতে এক পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন। খবর পেয়ে আরো পুলিশ গিয়ে বাড়িটি ঘিরে ফেলে। রাতে সোয়াত এবং ঢাকা থেকে কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সদস্যরা সেখানে যান। সারা রাত গোলাগুলি ও বোমা নিক্ষেপের ঘটনা চলতে থাকে। ভোরে বাড়িটিতে চূড়ান্ত অভিযান চালানো হয়।

এ সময় আত্মঘাতী বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দুই জঙ্গি এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে অন্য দুই জঙ্গি নিহত হয়। জঙ্গিদের বোমার বিস্ফোরণে সোয়াতের দুই সদস্যও গুরুতর আহত হন। তাঁদের চট্টগ্রামের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এর আগে ৭ মার্চ কুমিল্লায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই জঙ্গির তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামেরই মিরসরাই এলাকায় অন্য একটি জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করে। সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে পর পর তিনটি জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ায় জঙ্গিদের সংখ্যা, তাদের কাছে থাকা অস্ত্র ও বিস্ফোরকের পরিমাণ এবং তাদের নেটওয়ার্ক নিয়ে জনমনে নতুনভাবে আশঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

ধারণা করা হয়, ঢাকাসহ জঙ্গিবাদের জন্য চিহ্নিত কয়েকটি এলাকায় জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করার ফলে অপেক্ষাকৃত নিরাপদ ভেবে জঙ্গিরা চট্টগ্রাম ও অন্যান্য জেলায় সাময়িক আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারে। সেই ধারণারই প্রমাণ পাওয়া যায় সপ্তাহের ব্যবধানে তিনটি আস্তানার সন্ধান পাওয়ায়। কিন্তু সব ঘটনাই ঘটেছে কাকতালীয়ভাবে। ৭ মার্চ কুমিল্লায় বাসে নিয়মিত তল্লাশির সময় দুই জঙ্গি পুলিশের দিকে বোমা ছুড়ে পালানোর চেষ্টা করে। সে সময় স্থানীয় জনগণের সহায়তায় পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। তারা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল। চট্টগ্রামে ফিরিয়ে এনে তাদের তথ্যের ভিত্তিতে ওই রাতেই মিরসরাইয়ে অভিযান চালানো হয়। বুধবারের অভিযানও শুরু হয়েছে স্থানীয় একজনের দেওয়া তথ্যে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, চট্টগ্রামের গোয়েন্দা বিভাগ কী করছে? তিনটি আস্তানার একটির খোঁজও তারা পেল না কেন? ফলে জনমনে শঙ্কা জাগার যথেষ্ট কারণও রয়েছে। তারা ভাবতেই পারে, না জানি সেখানে এ রকম আরো কত আস্তানা রয়েছে! গোয়েন্দাদের এমন ঘুম ভাঙানোর উপায় কী?

জঙ্গিদের অর্থের অভাব হচ্ছে না, তারা বাড়িভাড়া নিয়ে দিব্যি থাকতে পারছে। অস্ত্র-বিস্ফোরক সংগ্রহেও তাদের অর্থের কমতি হয় না। কোথা থেকে আসে এই অর্থ? অবিলম্বে তাদের অর্থের উৎস খুঁজে বের করে তা বন্ধ করতে হবে। গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়টি অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে। যাঁরা তথ্য দেবেন, তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিচ্ছিন্ন দু-একটি অভিযানে জঙ্গি দমন হবে না, এ জন্য চাই সামগ্রিক পরিকল্পনা।

 


মন্তব্য