kalerkantho


নিকৃষ্টতম শহর ঢাকা

গ্লানিমুক্ত করার উদ্যোগ নিন

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



নিকৃষ্টতম শহর ঢাকা

অনেক দিন ধরেই ঢাকা বিশ্বের নিকৃষ্টতম শহরগুলোর একটি। আবারও সেই তকমাই জুটেছে ঢাকার কপালে। বিশ্বের ২৩১টি শহরের মধ্যে ঢাকার অবস্থান হয়েছে ২১৪তম। ঢাকার নিচে রয়েছে বাগদাদ, সিরিয়া, সানার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত কয়েকটি শহর। আর আছে আফ্রিকার অতিদরিদ্র কয়েকটি দেশের রাজধানী শহর। বসবাসযোগ্যতার এই মাপকাঠিতে এবার সবার নিচে অবস্থান হয়েছে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের। আর সবচেয়ে সুন্দর বা সেরা শহর নির্বাচিত হয়েছে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনা।

ঢাকা যে নিকৃষ্টতম শহরগুলোর একটি হয়েছে, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। ঢাকায় যারা বসবাস করে, তারা প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তে এখানে বসবাসের মূল্য দেয় সীমাহীন যন্ত্রণা ভোগের মধ্য দিয়ে। যানজটের ভোগান্তি তো আছেই, সেই সঙ্গে আছে চলাচলে নিরাপত্তাহীনতা, নানা মাত্রিক অপরাধ ক্রমেই বেড়ে চলেছে, ওয়াসার সরবরাহ করা পানির নিম্নমান, জনসেবার প্রতিটি ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্নীতি, ভোগান্তি ইত্যাদি। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার পরিবেশ মারাত্মক রকম দূষিত হয়ে পড়েছে।

ধুলাসহ বাতাসে ক্ষতিকর ও ভারী বস্তুকণার পরিমাণ জীবনের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে। উন্নয়নের নামে চলা স্বেচ্ছাচার দূষণের এই মাত্রা বহু গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে শ্বাসকষ্ট ও শ্বাসতন্ত্রের রোগসহ নানা ধরনের রোগব্যাধি বহু গুণ বেড়ে গেছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অবস্থাও অত্যন্ত নিম্নমানের। জঙ্গি-সন্ত্রাসও নাগরিক দুশ্চিন্তার অন্যতম কারণ। এসব কারণে ঢাকা বসবাসযোগ্যতার মাপকাঠিতে এগোতে পারছে না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মার্সারের গবেষণা প্রতিবেদনে তারই প্রমাণ পাওয়া যায়। গবেষণায় যেসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক পরিবেশ, স্বাস্থ্য পরিষেবা, শিক্ষা, অপরাধের মাত্রা, পরিবহন পরিকাঠামো, বিদ্যুৎ, খাওয়ার পানির সহজলভ্যতা, ডাকব্যবস্থা ও বিনোদনের সুযোগ। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, এর কোনোটিতেই ঢাকার অবস্থান ভালো নয়।

অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সম্প্রতি দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের এই অগ্রগতি বৈশ্বিক প্রশংসাও অর্জন করছে। পদ্মায় সেতু নির্মাণ, বেশ কিছু সড়ক চার লেন করাসহ যোগাযোগ অবকাঠামোর ক্ষেত্রেও অগ্রগতি দৃশ্যমান হচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনেও বৈপ্লবিক সাফল্য এসেছে। কিন্তু সবই প্রায় একরৈখিক। বসবাসযোগ্যতার উন্নয়নে অর্থনৈতিক অগ্রগতির পাশাপাশি সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবেশের উন্নয়নও অত্যন্ত জরুরি। প্রাকৃতিক পরিবেশও জীবনধারণের জন্য অত্যন্ত জরুরি। রাষ্ট্রীয় সেবাগুলোর মান বৃদ্ধির দিকে আমাদের আরো গুরুত্ব দিতে হবে। জননিরাপত্তা সুষ্ঠু না হলে জনজীবনে দুর্বিষহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, সেটি উপলব্ধি করতে হবে। উন্নত জীবনযাপনের জন্য বিনোদনের সুযোগ থাকাটাও অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের উন্নয়ন ছাড়া কোনো সমাজে মূল্যবোধ, নৈতিকতা, সততা, দেশপ্রেম ইত্যাদি গুণের বিকাশ ঘটে না। সেই সমাজ আধুনিক কিংবা মানবিক হয় না, যা বর্তমান বাংলাদেশে প্রকটভাবে লক্ষণীয়। তাই উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে টেকসই ও অর্থবহ করার জন্য শুধু একরৈখিক উন্নয়ন নয়, সামগ্রিক উন্নয়নের দিকে আমাদের অনেক বেশি জোর দিতে হবে। আমরা আশা করি, নীতিনির্ধারকরা শুধু ঢাকা নয়, সারা দেশেই মানুষের বসবাসযোগ্যতার উন্নয়নে আরো বেশি গুরুত্ব আরোপ করবেন।


মন্তব্য