kalerkantho


বখাটেপনার শিকার শিক্ষিকা

দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই

১৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সময় সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়। সমাজের হাত ধরে এগিয়ে যায় দেশ। কিন্তু বখাটেপনা নামের এক ব্যাধির সংক্রমণে আক্রান্ত দেশ থেকে সব মূল্যবোধ যেন দিনে দিনে ক্ষয়ে যাচ্ছে। একের পর এক বখাটেপনার ঘটনা ঘটেই চলেছে। চট্টগ্রামের পটিয়ায় ক্লাসরুমে ঢুকে শিক্ষিকাকে পিটিয়ে আহত করেছে এক বখাটে। শিক্ষিকার দুটি হাতই ভেঙে গেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে তাঁকে। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই বখাটেকে গ্রেপ্তার করেছে। এলাকার মানুষ বখাটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছে।

গত এক বছরে বখাটেপনার শিকার নারী-শিশু, এমনকি অভিভাবকদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। বখাটেপনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে অনেকে।

রাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট আইন থাকার পরও বখাটেপনা বন্ধ হচ্ছে না। প্রচলিত আইনে বখাটেপনার তিন ধরনের শাস্তি হতে পারে। ঢাকা মহানগর পুলিশ আইনের ৭৬ ধারা অনুযায়ী বখাটেপনার শাস্তি এক বছরের কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা। দণ্ডবিধির ৫০৯ ধারায়ও একই ধরনের শাস্তির কথা বলা আছে। নারী ও শিশু নির্যাতনের ১০ নম্বর ধারায় যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। কিন্তু এসবের প্রয়োগ কতটা হচ্ছে? যেভাবে দেশে বখাটেপনা বাড়ছে, তাতে কি এই আইন যথেষ্ট? অভিজ্ঞজনদের ধারণা, বখাটেপনা বন্ধ করতে প্রচলিত আইন যথেষ্ট নয়। এর সংশোধন দরকার। বখাটেরা যাতে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়, তা নিশ্চিত করা না গেলে ক্ষয়িষ্ণু সমাজ থেকে বখাটেপনা দূর করা যাবে না। সেই সঙ্গে সামাজিক প্রতিরোধব্যবস্থা আরো দৃঢ় করতে হবে। এর আগে সামাজিক মূল্যবোধ ফিরিয়ে আনতে সর্বস্তরে কাজ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরো তত্পর হয়ে বখাটেপনা নির্মূলে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের শৈথিল্য দেখানো চলবে না। দেখা যায়, অনেক সময় আইনের ফাঁক গলে বখাটেরা বেরিয়ে গিয়ে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে।

আমরা নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে গর্ব করি। কিন্তু নারীর অগ্রযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে বখাটেপনার কারণে। রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এ ব্যাধিতে আক্রান্ত। আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং বখাটেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, সেই সঙ্গে বখাটেদের পরিবারকে সামাজিকভাবে বয়কট করার মধ্য দিয়ে বখাটেমুক্ত সমাজ গঠন করা যেতে পারে। এ সামাজিক অবক্ষয় থেকে মুক্ত হতে না পারলে আমাদের কোনো উন্নয়নই টেকসই হবে না।

 


মন্তব্য