kalerkantho


ফ্লাইওভারের বিড়ম্বনা

দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করুন

১৫ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ফ্লাইওভারের বিড়ম্বনা

মালিবাগ-মগবাজার ও মালিবাগ-রামপুরা ফ্লাইওভার নিয়ে নগরীর মানুষ অনেক স্বপ্ন দেখেছিল। তাদের সব স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। চার বছর ধরে ফ্লাইওভার নির্মাণের নামে যে ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা চলে আসছে, তাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রাণ এখন ওষ্ঠাগত। সেই সঙ্গে আছে সেবা সংস্থাগুলোর অত্যাচার। গর্ত খুঁড়ে রেখে দেওয়া, ড্রেনের ময়লা তুলে রাস্তায় জমিয়ে রাখা, এমনি আরো অনেক কিছু। ফ্লাইওভারের দুই পাশে চলাচলের জন্য সামান্য যে রাস্তা আছে, তা এখন বড় বড় খানাখন্দে ভরা। সেগুলোয় সারাক্ষণ জমে থাকছে ময়লা পানি। ফ্লাইওভারের রড, বালু, খোয়া ও রাবিশের স্তূপ ছড়িয়ে আছে রাস্তাজুড়ে। সেই সঙ্গে ভারী ভারী ক্রেন, ট্রাক থামিয়ে রাখা হয় রাস্তার ওপর। ফলে এই রাস্তা দিয়ে রীতিমতো জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। দুর্ঘটনা এখানে নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে উঠেছে।

ধারণা করা হয়, গত চার বছরে কয়েক শ মানুষ এখানে নানাভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। গত রবিবার ওপর থেকে গার্ডার পড়ে একজন নিহত ও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। তার পরও নির্মাণকাজের ঠিকাদারদের কোনো হুঁশ ফিরেছে বলে মনে হয় না। এখনো এমনভাবে কাজ চলছে, যাতে নিচ দিয়ে চলা যেকোনো মানুষ যেকোনো সময় মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। এসব কারণে এলাকার মানুষ এখন ফ্লাইওভারের যন্ত্রণা থেকে দ্রুত মুক্তি চায়। ফ্লাইওভার নির্মাণের সময় দুই পাশের রাস্তা চলাচল উপযোগী রাখার কথা ছিল। এ নিয়ে সড়ক ও সেতু মন্ত্রীর আগে যথেষ্ট তত্পরতা ছিল। এখন তাঁর তত্পরতাও অনেক কমে গেছে। এদিকে বর্ষা প্রায় এসে গেছে। এখনো যদি রাস্তা চলাচলের উপযোগী করা না হয়, তাহলে বর্ষায় কী অবস্থা হবে, তা ভাবতেও কষ্ট হয়। অনেকের প্রাণও ঝরে যেতে পারে এই রাস্তায়। তার দায়দায়িত্ব কে নেবেন?

যেকোনো উন্নয়নকাজে সাময়িক কিছু কষ্ট সহ্য করতে হয়। কিন্তু সে কষ্টের মাত্রা থাকে, নির্ধারিত সময় থাকে। বারবার কাজ শেষ করার সময়সীমা দিয়েও তা রক্ষা করা যায়নি এই ফ্লাইওভারের ক্ষেত্রে। তার ওপর নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষকে কিছু দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হয়। এই ফ্লাইওভার নির্মাণের ক্ষেত্রে সেই দায়িত্ববোধেরও পরিচয় পাওয়া যায় না। দিনের বেলা এমনভাবে ওপরে রড তুলতে দেখা যায় কিংবা ওপর থেকে নানা ধরনের জিনিস ফেলতে দেখা যায়, যা যেকোনো সময় নিচ দিয়ে চলাচলকারী মানুষের মাথায় পড়তে পারে। নিচে কাজ করে রড বা ধারালো জিনিস এমনভাবে ফেলে রাখা হয়, যাতে যেকোনো সময় পথচারীরা আঘাত পেতে পারেন। এরই মধ্যে অনেকেই হয়তো তেমনভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে থাকবেন। সব খবর কখনো মিডিয়ায় আসে না। নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষের এমন উদাসীনতা কেন? এগুলো দেখার জন্য যাঁরা রয়েছেন, তাঁরা কী করছেন? আমরা ফ্লাইওভার চাই। তার অর্থ এই নয় যে বছরের পর বছর চরম নির্যাতন সহ্য করতে হবে। আমরা আশা করি, অবিলম্বে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


মন্তব্য