kalerkantho


হাজারীবাগের ট্যানারি স্থানান্তর

সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশকে সম্মান দেখান

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি সরানোর দাবিতে অনেক আন্দোলন হয়েছে, হাইকোর্ট থেকে কয়েক দফা নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সরকারও দফায় দফায় সময় বাড়িয়েছে। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা কোনো কিছুকেই পাত্তা দেননি।

এবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে অবিলম্বে ট্যানারি সরিয়ে নিতে বলেছেন। সরকারকে অবিলম্বে কারখানাগুলোর গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দিতে বলা হয়েছে। এবার দেখার পালা, ট্যানারি সরে কি না!

ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা এখন মৃতপ্রায়। বুড়িগঙ্গার এমন মরণদশার পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছে হাজারীবাগের ট্যানারি কারখানাগুলো। মারাত্মক বিষাক্ত তরল ও কঠিন বর্জ্য নদীতে পড়ে নদীর পানিকেও বিষাক্ত করে ফেলেছে। স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। স্বাভাবিক কারণেই মানুষ প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ সরকার সারা দেশে মারাত্মক পরিবেশদূষণকারী যে ৯০৩টি কারখানা শনাক্ত করেছিল, তার মধ্যেও ছিল হাজারীবাগের এই কারখানাগুলো। প্রতিবাদের একপর্যায়ে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো আদালতেরও শরণাপন্ন হয়।

২০০১ সালে এক রিট মামলার রায়ে হাইকোর্ট অবিলম্বে হাজারীবাগ থেকে কারখানাগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সরকার ও ট্যানারি মালিকদের নির্দেশ দেন। সরকারও নানাভাবে তাগাদা দিতে থাকে। কিন্তু মালিকরা শুধু সময় নেওয়ার কৌশল অবলম্বন করেন। দ্বিতীয় দফায় হাইকোর্ট ২০১০ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ট্যানারি সরানোর সর্বশেষ সময় বেঁধে দিয়েছিলেন। তারপর ছয় মাস সময়ও বাড়িয়েছিলেন। সরকারের সঙ্গেও তাঁরা ২০১৪ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে চুক্তি করেছিলেন। দুবার সময় বাড়ানোর পর সর্বশেষ তারিখ নির্ধারিত হয়েছিল ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর। তাতেও সরেনি। ক্ষুব্ধ শিল্পমন্ত্রী ৭২ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। তাতেও কোনো লাভ হয়নি। গত বছরের জুন মাসে হাইকোর্ট এক আদেশে বলেন, হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি না সরানো পর্যন্ত প্রতিটি কারখানাকে প্রতিদিন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে। পরে মালিকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আপিল বিভাগ তা কমিয়ে প্রতিদিন ১০ হাজার টাকা করেছিলেন। কিন্তু সেই জরিমানাও তাঁরা ঠিকমতো দেননি। ৩০ কোটি টাকারও বেশি বকেয়া পড়েছে। অবশেষে গত ৩ মার্চ হাইকোর্ট অবিলম্বে হাজারীবাগের সব ট্যানারি বন্ধ এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেন। হাইকোর্টের রায় কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখার জন্য মালিকদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে আপিল বিভাগ গত রবিবার তা-ও খারিজ করে দিয়েছেন। এখন তাঁরা কী করবেন?

এরই মধ্যে সরকারি খরচে সাভারে ট্যানারিপল্লী গড়ে তোলা হয়েছে। সরকারি খরচেই সেখানে বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা বা ইটিপি তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানান্তরের জন্য আড়াই শ কোটি টাকার মতো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। তার পরও এমন গড়িমসি কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমরা আশা করি, হাজারীবাগের ট্যানারি মালিকরা দ্রুততম সময়ে সাভারে তাঁদের কারখানা স্থানান্তর করে হাজারীবাগ ও বুড়িগঙ্গার পরিবেশ উন্নয়নে সহায়তা করবেন।


মন্তব্য