kalerkantho


জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

নাগরিক সেবা প্রদানে সচেষ্ট হোন

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



রাজধানী ঢাকায় যাদের বসবাস তাদের নানা উত্পীড়ন সহ্য করতে হয়। ঘর থেকে বের হলেই যানজট, কালো ধোঁয়া, রয়েছে প্রয়োজনীয় অক্সিজেনের অভাব। শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যুতের লোডশেডিং, বর্ষায় রাস্তাঘাটে পানি জমে থাকা, ড্রেন উপচে পড়া থেকে শুরু করে নানা যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে মশার উৎপাত। তাতে কিছু প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা বাড়লেও আখেরে ক্ষতি হচ্ছে মানুষের। বাজারে পাওয়া যায় এমন মশানিধন সরঞ্জামের কারণে দীর্ঘ মেয়াদে হুমকির মুখে পড়ছে জনস্বাস্থ্য। মশানিধনের জন্য যে কীটনাশক ব্যবহার করা হয়, তাতে সঠিক মাত্রায় ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হচ্ছে না বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষ থেকে যে মাত্রা নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে, তার চেয়ে অনেক বেশি মাত্রায় অ্যাকটিভ ইনগ্রিডিয়েন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করছে অনেকে। এ ছাড়া মশা মারার যেকোনো ওষুধে শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। যেমন কয়েলের ধোঁয়ায় নাক, গলা, ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি ক্যান্সার হওয়ারও আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।

এমনিতেই ধুলাবালিতে রাজধানীবাসী অতিষ্ঠ। কিছু কিছু এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বড় ধরনের নির্মাণকাজ চলছে। এসব এলাকার মানুষ অনেক দিন থেকেই ধুলার অত্যাচার সহ্য করছে। বর্ষা মৌসুম আসার আগেই কোনো কোনো এলাকায় ড্রেনের পানি উপচে পড়ে রাস্তায় চলাচল অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে শুরু হয়েছে মশার অত্যাচার। সামনে বর্ষা মৌসুম আসছে। আগে থেকেই ব্যবস্থা না নিলে বর্ষার জমে থাকা পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটবে। বর্ষা ও বর্ষাপরবর্তী সময়ে এডিস মশার উপদ্রব বাড়ে। দেখা দেয় ডেঙ্গু। এখনই মশার অত্যাচারে তিষ্ঠানো দায় হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে এডিস মশার অত্যাচার কোন পর্যায়ে পৌঁছবে তা ভেবে আমাদের আতঙ্কিত হতে হয়। রাজধানীতে এমন কোনো জায়গা বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেখানে মশার উপদ্রব নেই। সিটি করপোরেশনের মশানিধন অভিযান নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। এই সুযোগে অনেক প্রতিষ্ঠান দেশের বাইরে থেকেও মশার ওষুধ আমদানি করছে। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান দেশেই মশার ওষুধ তৈরি করছে। আবার দেশের কোনো কোনো এলাকায় কীটনাশকযুক্ত মশারিও ব্যবহৃত হচ্ছে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর।

মশার অত্যাচার নিয়ে জাতীয় সংসদে কথা উঠলেও জনজীবনে তার কোনো প্রভাব পড়তে দেখা যায়নি। মশানিধন অভিযান জোরদার হয়নি। বেড়েছে মশার ওষুধ নিয়ে ব্যবসা করে এমন প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্য। দেশে ব্যবহৃত মশার ওষুধ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম মেনে তৈরি হচ্ছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা উচিত। মশানিধনে সিটি করপোরেশনের তত্পরতা বাড়ালে ক্ষতিকর ওষুধের ব্যবহার কমবে।


মন্তব্য