kalerkantho


সিটি করপোরেশন আইন

অযথা অপব্যবহার করবেন না

১২ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সিটি করপোরেশন আইন

জনমতে ভর করেই একজন প্রার্থী নেতৃত্বের দায়িত্ব পান। রাষ্ট্রের অন্যান্য কাঠামোর দায় হচ্ছে দায়িত্ব পালনে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা করা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা নয়।

বিজয়ী প্রার্থী যে দলেরই হোন, অন্যান্য দল তাঁকে মেনে নেবে—এ গণতন্ত্রেরই মূলকথা। বিজয়ী প্রার্থী তিনি যে দলেরই হোন—সরকার বা প্রশাসন থেকে সব ধরনের সহযোগিতা তাঁর প্রাপ্য। সরকারি দলের নন—শুধু এ কারণেই কোনো জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনি কোনো বিধানের অপপ্রয়োগের অবকাশ নেই।

বর্তমান সরকারের আমলে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত অনেক জনপ্রতিনিধি বিভিন্ন মামলায় চার্জশিটভুক্ত হওয়ার পর সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। পরে উচ্চ আদালতের নির্দেশে তাঁদের অনেকে জনপ্রতিনিধির পদ ফিরেও পেয়েছেন। ফলে স্থানীয় সরকার আইনের যেসব ধারা বলে তাঁদের বরখাস্ত করা হচ্ছে সেগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কালের কণ্ঠ’র প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিভিন্ন জেলায় শতাধিক জনপ্রতিনিধিকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল; তাঁদের মধ্যে ৪১ জনের বরখাস্তের আদেশ হাইকোর্ট স্থগিত করেছেন। এ থেকেই স্পষ্ট, বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত যথার্থ ছিল না। বরখাস্তকৃতদের মাত্র একজন আওয়ামী লীগের।

১১ জন হলেন জামায়াতের, বাকি সবাই বিএনপির। নির্বাচনে জয়ী প্রার্থীদের বেশির ভাগই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের, বরখাস্তের সিদ্ধান্তগুলো যাচ্ছে মোটা দাগে অন্য দলের জয়ী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে। এই অনুপাত থেকেও সন্দেহ করা যায় সাময়িক বরখাস্ত করার পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা ইন্ধন হয়তো কাজ করেছে।

২০০৯ সালে করা স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ১২(১) ধারায় রয়েছে, মেয়র বা কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলায় চার্জশিট বা অভিযোগপত্র গৃহীত হলে সরকার লিখিত আদেশের মাধ্যমে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারবে। এই সুযোগে ফৌজদারি মামলায় দেওয়া চার্জশিট আদালতে গৃহীত হলেই তাঁকে বরখাস্ত করে ‘অপরাধী’ সাব্যস্ত করা হচ্ছে। অথচ আইনের সাধারণ কথাই হচ্ছে, আদালতে দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অপরাধী বলা যাবে না। এ কারণে বিশ্লেষকরা স্থানীয় সরকার সংস্থার সংশ্লিষ্ট আইনের ওই ধারা সংশোধন করা জরুরি হয়ে পড়েছে বলেই মনে করছেন। তাঁদের অভিমত, সংশোধন করা না হলে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ধারাটির অপব্যবহার চলতেই থাকবে।

উচ্চ ও নিম্ন আদালতে বিচারাধীন মামলার স্তূপ যখন ক্রমেই উঁচু হচ্ছে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবি উচ্চারিত হচ্ছে সব মহল থেকে, তখন এ ব্যাপারে সবার সহযোগিতামূলক মনোভাব থাকতে হবে। স্রেফ হয়রানির উদ্দেশ্যে একজন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা, তারপর সেই প্রার্থীর উচ্চ আদালতে যাওয়া—এভাবে বিচারব্যবস্থার ওপর অনর্থক চাপও কি বাড়ানো হচ্ছে না?

কোনো আইনের কোনো ধারা যদি মানুষের হয়রানির কারণ হয়েই দাঁড়ায়, তবে তা সংশোধন করতে হবে। আইন বা বিধান প্রণয়নের উদ্দেশ্য জনকল্যাণ; জনহয়রানি করা নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ভুল ব্যবহার গণতন্ত্রকে বরং আরো দুর্বল করে দেয়।

 


মন্তব্য