kalerkantho


চুরির অপবাদ দিয়ে নির্যাতন

দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



সমাজ থেকে মানবিকতা, মূল্যবোধ, ন্যায়নীতি, এমনকি সাধারণ বিবেচনাবোধও যেন হারিয়ে যাচ্ছে। সমাজ ক্রমেই হিংস্র হয়ে উঠছে।

তা না হলে সামান্য মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে মা-মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বাঁশ দিয়ে পেটানো হয় কিভাবে? নির্যাতনকারীদের ক্রোধ থেকে রক্ষা পায়নি দুই বছরের শিশুও। তার মাথায় আঘাত লেগেছে। আহতদের সবাই এখন ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে কাতরাচ্ছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার ঝালকাঠিতে। একই রকম ঘটনা ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুরেও। ছাগল চুরির অভিযোগে স্কুল ছাত্র দুই কিশোরকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পেটানো হয়েছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নির্দেশে দুই মেম্বার কিশোরদের অমানবিকভাবে পিটিয়ে বীরত্ব প্রদর্শন করেছেন। জনপ্রতিনিধি বটে!

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, সমাজে আইনের শাসনের ঘাটতি হলে অপরাধীরা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দুর্বলের ওপর সবলের অত্যাচার বেড়ে যায়।

সেই পরিস্থিতিই দেখা যাচ্ছে বর্তমান বাংলাদেশে। তুচ্ছ ঘটনায় পিটিয়ে মেরে ফেলার মতো ঘটনাও ঘটছে। এর বেশির ভাগ ঘটনায়ই অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ঝালকাঠির ঘটনায় নির্যাতনকারী দেলোয়ার হোসেন বহাল তবিয়তেই রয়েছেন। ঘটনার পর পুলিশ নির্যাতিতদের উদ্ধার করলেও পরবর্তী সময়ে থানার পুলিশ বলছে, থানায় মামলা হয়নি, তাই তারা কিছু করতে পারছে না। পুলিশের এমন বক্তব্য বা গা ছাড়া ভাবের কারণ অজানা নয়। অভিযোগ আছে, পুলিশ প্রথমে কিছুটা তোড়জোড় দেখালেও আসামিপক্ষের সঙ্গে বিশেষ সমঝোতার কারণে পরে তাদের অবস্থান পাল্টে যায়। আসামি সামনে থাকলেও তারা দেখতে পায় না। কিংবা তদন্ত প্রতিবেদন এমনভাবে লেখা হয় যে বিচারে অপরাধীরা পার পেয়ে যায়। আর সেখানেই সৃষ্টি হয় আইনের শাসনে বড় ধরনের ঘাটতি। রাজশাহীর ঘটনায় দুই কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়েছে। দুই মেম্বারকে গ্রেপ্তার করা হলেও অভিযুক্ত চেয়ারম্যান পলাতক।

আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, অভিযোগকারী নিজেই বিচারক বনে যাওয়া, শারীরিকভাবে নির্যাতন করার ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়ে চলেছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পূর্ববিরোধ বা পূর্বশত্রুতার কারণে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তথাকথিত বিচারের নামে শারীরিক শাস্তি ও সামাজিকভাবে অপদস্থ করার এসব ঘটনা ঘটানো হয়। ঝালকাঠি ও রাজশাহীর দুটি ঘটনাই শক্ত হাতে মোকাবেলা করতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসন বা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নজরদারি করতে হবে। পাশাপাশি বিচার বা সালিসের নামে শারীরিক নির্যাতনের এসব ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।


মন্তব্য