kalerkantho


ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা

মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ে নামুন

১১ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর হামলা

মাদক চোরাকারবার ভয়াবহ রূপ নিলেও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এ সুযোগে অপরাধীরা ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বেশ কিছুদিন আগে কক্সবাজারের টেকনাফে ছয় সাংবাদিকের ওপর ইয়াবা কারবারিরা সশস্ত্র হামলা চালিয়েছিল। এবার ফেনীর ফুলগাজীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ওপর তারা শুধু চড়াওই হয়নি, কর্তব্যরত ম্যাজিস্ট্রেটকে কুপিয়ে জখম করে একজন আনসার সদস্যকে ধরে নিয়ে যায় এবং হত্যা করে। ঘটনাটি শুধু এ দুজনের ওপরই আঘাত নয়, দেশের আইনি ব্যবস্থার ওপরও প্রত্যক্ষ আঘাত।

মাদকের আগ্রাসন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা মহল থেকে উদ্বেগ ব্যক্ত হলেও প্রশাসন সাফল্য দেখাতে পারছে না, পরিস্থিতি বরং অবনতির দিকেই যাচ্ছে। সম্প্রতি রাজধানীর প্রায় সব এলাকায় কিশোরদের সংঘবদ্ধভাবে অপরাধী হয়ে ওঠার সঙ্গেও মাদকের হাতছানি রয়েছে। একটি মহল তাদের জঘন্য লোভের অস্ত্র করছে এই অল্প বয়সীদের।

মাদক, বিশেষ করে ইয়াবার বিস্তার কত গভীরে পৌঁছেছে, তা গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠ’র এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানা যায়। র‌্যাবের ‘রিপোর্ট টু র‌্যাব’, পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ ও ‘বিডি হেল্প লাইন’ নামের অ্যাপসে সাধারণ মানুষ যেসব অভিযোগ জানাচ্ছে, তার বেশির ভাগই ইয়াবা কিংবা মাদকসংক্রান্ত। প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ইয়াবা আনা হচ্ছে।

টেকনাফ হয়ে মিয়ানমারের মাদক ঢুকছে; আর আমরা তা প্রতিহত করতে পারছি না। মাদক এখন আগের চেয়েও সহজলভ্য। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশ প্রশাসনেরই প্রশ্রয়ে মাদক বেচাকেনা চলে বলে অভিযোগ আছে। মাদক কারবারিচক্র কৌশলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইয়াবা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বন্ধুবান্ধবের পাল্লায় পড়ে ইয়াবা ধরে অনেকেই বেরোতে পারছে না, যাদের মধ্যে অনেক তরুণী-কিশোরীও আছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো অভিভাবক কি নিশ্চিত থাকতে পারেন, তাঁর উঠতি বয়সী সন্তানও হঠাৎ অসৎ সঙ্গের পাল্লায় পড়বে না? অর্থের লোভে যেসব মহল থেকে মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেওয়া হয়, তাদের সন্তানও কি এই ঝুঁকির বাইরে? নিশ্চয়ই না।

পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনেই মাদকের বিরুদ্ধে সর্বোত্তম লড়াই চালাতে হবে। ফেনীতে ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলা হয়েছে, খুন করা হয়েছে অভিযান পরিচালনাদলের সদস্য আনসারকর্মীকে। মাদক কারবারিদের এই স্পর্ধা সীমার অতীত। কঠোর হাতে দমন না করলে তারা আরো বেপরোয়া হতে দ্বিধা করবে না। মাদকের রাঘব বোয়ালরা ধরা পড়ে না, কোনো চুনোপুঁটি যদি ধরাও পড়ে, আইনের ফাঁকের অভাব হয় না। এসব দুর্বলতা কাটাতে হবে। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে হোক কিংবা পাহারা বাড়িয়েই হোক—মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসা বন্ধ করতে হবে। অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলে কিংবা তাদের প্রশ্রয় দিলে কী পরিণাম হতে পারে, তারই সর্বশেষ নজির মাদক কারবারিদের এই হামলা। সরকারকে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে সাঁড়াশি অভিযান চালাতে হবে।


মন্তব্য