kalerkantho


নারী নির্যাতনের বিচারে দীর্ঘসূত্রতা

ট্রাইব্যুনাল ও বিচারকের সংখ্যা বাড়ান

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ঘরে-বাইরে কোথাও নারীরা নিরাপদ নয়। নারী নির্যাতনের ঘটনা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এর একটি প্রধান কারণ নির্যাতনকারীদের শাস্তি না হওয়া। অপরাধীরা শাস্তি না পেলে তারা আরো অপরাধ করতে উৎসাহিত হয়। এ ক্ষেত্রেও তা-ই হচ্ছে। নারী নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জন্য বেশ কিছু ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছিল। ১৮০ দিন বা ছয় মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করার কথা বলা হয়েছিল। বাস্তবে বহু মামলা বছরের পর বছর ঘুরছে। এভাবে দেশের ৪৬টি জেলার ৫৪টি ট্রাইব্যুনালে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ৫৬ হাজার ৮২টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় জমা হয়ে আছে। ১৮টি জেলায় এখনো কোনো ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যায়নি। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে চলা এসব মামলার অনেক আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে বাদীর ওপর হুমকি বা চাপ সৃষ্টি করছে।

অনেকে প্রাণভয়ে মামলা তুলে নিতে কিংবা মামলা পরিচালনা থেকে সরে আসতে বাধ্য হচ্ছে। এই অবস্থায় নারীদের বিচার পাওয়ার অধিকারও দিন দিন কমে আসছে।

সমাজে সাধারণত সবলের হাতেই দুর্বলরা অত্যাচারের শিকার হয় বেশি। রাষ্ট্রের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুর্বলরা সেই অত্যাচার-নির্যাতনের প্রতিকার খোঁজে। নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে এই সত্য আরো বেশি প্রকট। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নির্যাতিত নারীদের দুর্বলপক্ষ সবল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বিচার চাওয়ারই সাহস পায় না। ফলে দীর্ঘশ্বাসের সঙ্গে তারা এসব অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করে। তার পরও যারা সাহস করে রাষ্ট্রের আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার পাওয়ার আশা করে, তাদের এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়া মোটেও কাম্য নয়। এটি সমাজের দুর্বল অংশের বিচার পাওয়ার অধিকারকে অস্বীকার করারই শামিল। তাই নারী নির্যাতনের ঘটনাগুলোর বিচার দ্রুততর করার উদ্যোগ নিতে হবে। জানা যায়, নারী নির্যাতনের বিচারে গতি আনার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ১৮টি জেলায় ৪১টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছিল। জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পর প্রস্তাবটি এখন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। আমরা আশা করি, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুত ৪১টি ট্রাইব্যুনাল গঠনের কাজ সম্পন্ন করা হবে।

অনেক প্রতিকূলতা মোকাবেলা করে বাংলাদেশের নারীরা দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের নারীদের এই অগ্রগতি বিশ্ববাসীর প্রশংসাও কুড়িয়েছে। গত ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসে সম্পূর্ণভাবে নারী কর্মীরা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ চালিয়েছেন। এটা নির্দ্বিধায় বলা চলে, কাজের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের নারীরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবে। রাষ্ট্রকে সেই পরিবেশ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।


মন্তব্য