kalerkantho


জঙ্গি তৎপরতা থেমে নেই

সব ‘হাইড পয়েন্ট’ খুঁজে বের করুন

১০ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



জঙ্গি তৎপরতা থেমে নেই

কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পুলিশের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে আহত দুই জঙ্গির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী তল্লাশি চালিয়ে চট্টগ্রামের মিরসরাই পৌর এলাকার একটি বাড়ি থেকে ২৯টি গ্রেনেডসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা অন্যান্য দ্রব্যের মধ্যে আছে কালো পাঞ্জাবি ও কালো পতাকা।

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার পর এ ধরনের পাঞ্জাবি ও পতাকা জনমনে আতঙ্কের কারণ হয়েছে। যে বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক ও বিস্ফোরকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে, তার অবস্থান মিরসরাই থানা থেকে ২০০ গজ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে মাত্র ৫০ গজ দূরে। ধারণা করা হচ্ছে, বড় কোনো অপতৎপরতা চালানোর উদ্দেশ্যেই নাম-পরিচয় গোপন করে বাড়িটি ভাড়া নিয়েছিল জঙ্গিরা।

সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও জঙ্গিবাদ এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। অতীতের কয়েকটি বড় বড় ঘটনার পর জঙ্গিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে গোপন আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। মিরসরাইয়ের এ বাড়িকেও জঙ্গিদের ‘হাইড পয়েন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে, এমনকি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এমন জঙ্গি আস্তানার সন্ধান মিলেছিল। পরিচয় গোপন করে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে আত্মগোপন করে থাকার চেষ্টাই ছিল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ধারণা, দেশের বিভিন্ন স্থানে এমন আরো অনেক ‘হাইড পয়েন্ট’ আছে, যেখানে পরিচয় গোপন করে জঙ্গিরা আস্তানা গড়ে তোলার চেষ্টা করছে।

ভবিষ্যতে বড় ধরনের আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে এসব জায়গা থেকে। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ গড়ে তোলার চেষ্টাও থেমে নেই। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের দৃশ্যমান বিস্তার বেশ উদ্বেগের কারণ বলে সম্প্রতি এক সেমিনারে ঢাকায় নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। গত বছর হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর থেকে এটি স্পষ্ট হয়েছে যে জঙ্গি সংগঠনগুলো নতুন নতুন কর্মকৌশল নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার করছে তারা। স্বাভাবিকভাবেই জঙ্গি দমনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও আগের চেয়ে অনেক বেশি কুশলী হতে হবে। দেশের জঙ্গি দমনে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের অভ্যন্তরে অপতৎপরতা চালিয়ে প্রতিবেশী দেশে আত্মগোপনের ঘটনাও ঘটেছে। আবার পরিচয় গোপন করে বিদেশে পাড়ি জমানোও জঙ্গিদের জন্য অসম্ভব নয়। সম্প্রতি গুলশান হামলায় সন্দেহভাজন এক জেএমবি নেতাকে কলকাতার আস্তানা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরেও জঙ্গিরা শক্তি সঞ্চয় করছে। আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার পথে মুফতি হান্নানকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কাজেই সমন্বিত উদ্যোগে জঙ্গি দমনে কাজ করতে হবে। আজ থেকে সারা দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান শুরু হচ্ছে। এই অভিযান যেন সঠিকভাবে সফল হয় সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে।


মন্তব্য