kalerkantho


বদরুলের যাবজ্জীবন

নারী নির্যাতন বন্ধ করতে কঠোর হোন

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



 আন্তর্জাতিক নারী দিবসে দেশের বহুল আলোচিত এক নারী নির্যাতন মামলার রায় ঘোষিত হয়েছে। সিলেটের কলেজ ছাত্রী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে হত্যাচেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত বদরুল আলমের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

গত বছরের ৩ অক্টোবর সিলেটের এমসি কলেজ কেন্দ্রে স্নাতক পরীক্ষা দিয়ে বের হয়ে হামলার শিকার হন সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রী খাদিজা। এরপর সিলেট ও ঢাকায় দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি।

দেশে শিক্ষার হার বেড়েছে। সব ক্ষেত্রে নারী অংশগ্রহণ করছে। পুরুষের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে নারী। সারা দুনিয়ায় বাংলাদেশের নারী জাগরণ সাড়া ফেলেছে। তার পরও দেশে নারীর প্রতি সহিংসতা কমছে না। প্রায় প্রতিদিনই গণমাধ্যমে নারী নির্যাতনের খবর আসে। গত ডিসেম্বরে নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে বাংলাদেশে কর্মরত ১৪ জন রাষ্ট্রদূত চিঠি লিখে মেয়ে, মা ও স্ত্রী হিসেবে নারীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

আসলে বাংলাদেশের বাস্তবতা যেন একটু অন্য রকম। আমাদের সমাজ যেন কোনোভাবেই অগ্রসর হতে পারছে না। শিক্ষিত পরিবারে যেমন, তেমনি অপেক্ষাকৃত দরিদ্র পরিবারেও প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে নারী। প্রতিকূল অবস্থার সঙ্গে লড়াই করে চলতে হচ্ছে বাংলাদেশের নারীদের। নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে আমরা অনেকটা পথ অগ্রসর হয়েছি। কিন্তু নারীর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছি না, এ সত্য মেনে নিতে হবে। এটা এক অর্থে আমাদের ব্যর্থতা। এই ব্যর্থতার দায় রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। গত বছর ভায়োলেন্স অ্যাগেইনেস্ট উইমেন শীর্ষক এক জরিপেও নারী নির্যাতনের নানা দিক উঠে আসে। সামাজিক ও পারিবারিক নির্যাতন থেকে মুক্তি মিলছে না। নারী নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধে দেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নারী সংগঠনগুলোর আন্দোলনে ফল হিসেবে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন পাস হলেও তার সুফল পাওয়া যাাচ্ছে না। গড়ে উঠছে না সামাজিক প্রতিরোধ। সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়সহ নানা কারণে একশ্রেণির মানুষ বেপরোয়া হয়ে উঠছে। বদরুল আলম সেই অপরাধীদেরই একজন। প্রেমের নামে এক উচ্ছল তরুণীকে হত্যা করতে তার হাত কাঁপেনি।   

খাদিজার ওপর আক্রমণের পর গ্রেপ্তার হলেও বদরুলের শাস্তি নিয়ে সংশয় ছিল। কারণ তার রাজনৈতিক পরিচয়। কিন্তু অপরাধীর একমাত্র পরিচয় যে অপরাধী, আদালতের রায়ে তা প্রমাণ হয়েছে। দ্রুততম সময়ে শেষ হয়েছে বিচারপ্রক্রিয়া। বিচারের দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ থাকে। এখানে তা নেই। যদিও আরো অনেক আইনি লড়াই বাকি আছে। তবু নিম্ন আদালতের রায়ে বদরুল দোষী সাব্যস্ত হয়েছে। বদরুলের শাস্তি দৃষ্টান্ত হোক। আর কোনো খাদিজা যেন সহিংসতার শিকার না হন।


মন্তব্য