kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

আঞ্চলিক সহযোগিতায় সব দেশ উপকৃত হবে

৯ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

সামুদ্রিক সহযোগিতা জোরদার ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক জোট আইওআরএ সম্মেলনে সময়োপযোগী কিছু দাবি তুলে ধরেছেন। রোহিঙ্গা সমস্যা শুধু বাংলাদেশ নয়, এই অঞ্চলের বেশ কিছু দেশের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্যই হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

এই অঞ্চলের দেশগুলোর ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নের সঙ্গে ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরের যোগাযোগটি প্রত্যক্ষ। প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এই অসীম সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতেই হবে। ভূ-রাজনৈতিক নিরাপত্তার স্বার্থে এই আঞ্চলিক জলসীমাকেও রাখতে হবে নিরাপদ।

প্রধানমন্ত্রী জোটের নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, এর মধ্যেই বাংলাদেশের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সামুদ্রিক অর্থনীতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সমুদ্রসীমার শান্তিপূর্ণ সমাধানের মধ্য দিয়ে অর্থনীতিতে নতুন যুগের সূচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেছেন, সমুদ্র থেকে অর্থনৈতিক সুবিধা লাভের অন্যতম শর্ত হচ্ছে নিজস্ব দক্ষতা বৃদ্ধি। আমাদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতারা প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানের মর্মার্থ উপলব্ধি করবেন এবং প্রধানমন্ত্রীর ধারণা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কর্মকৌশল প্রণয়নে উদ্যোগী হবেন।

রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানেও পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়োজন রয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার মধ্যেই সমস্যার সমাধান নিহিত—এই সহজ ফর্মুলা মিয়ানমারও কি জানে না? তারা শুনেও না শোনার ভান করছে, পরোয়া করছে না এমনকি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দাবিও। যেসব দেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা আশ্রয় নিয়েছে তাদের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এ কারণে খুব জরুরি।

সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় বিশ্বরাজনীতিতে একধরনের অনিশ্চয়তা দৃশ্যমান। অনেকে এমনও অনুমান করছেন, বিশ্বে পশ্চিমা প্রভাব কমে আসবে; শক্তির ভরকেন্দ্রে এশিয়া ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সন্ত্রাসবাদ এই সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিয়েছে এবং ইন্দোনেশিয়ায় আইওআরএ সম্মেলনে জঙ্গিবাদ মোকাবেলার ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ইচ্ছা ব্যক্ত হয়েছে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, জঙ্গিবাদ কোনো দেশ বিশেষের সমস্যা নয়, তাই লড়াইও হতে হবে ঐক্যবদ্ধভাবে। প্রধানমন্ত্রী জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির যে দাবি জানিয়েছেন তা-ও খুব গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পায়ন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি জ্বালানির চাহিদাও বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রযুক্তি ও দক্ষতায় অংশীদারি বাড়লে জ্বালানি উৎপাদন বাড়বে, সহজতর হবে সঞ্চালন।

প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী কিছু আহ্বান জানিয়েছেন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়নের কর্মকৌশল প্রণয়নের লক্ষ্যে এখন নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসতে হবে। রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমারের ওপর  চাপ সৃষ্টি করতে হবে সম্মিলিতভাবে। সমুদ্রসম্পদ যে অসীম সম্ভাবনার হাতছানি দিচ্ছে, আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়িয়ে তা বাস্তব করা গেলে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে এই অঞ্চলের কোটি কোটি মানুষ।


মন্তব্য