kalerkantho


প্রিজন ভ্যানে হামলা

জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করুন

৮ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



আবারও প্রিজন ভ্যানে হামলা করে জঙ্গিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। হরকাতুল জিহাদ নেতা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নান ও তার সহযোগীদের আদালতে হাজিরা শেষে কাশিমপুর কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়ার সময় টঙ্গীতে এই হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশের ধারণা, জঙ্গিদের ছিনিয়ে নিতেই এই হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু আগাম তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সতর্ক থাকায় এবার আর তারা সফল হতে পারেনি। বোমা-চাপাতিসহ সন্দেহভাজন এক জঙ্গি ঘটনাস্থলে ধরাও পড়েছে। তিন বছর আগে ময়মনসিংহের আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার সময় ত্রিশালে একই কায়দায় জঙ্গিরা প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জেএমবি নেতা হাফেজ মাহমুদ, সালাউদ্দিন সালেহিন ও যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত বোমারু মিজানকে ছিনিয়ে নিয়েছিল। জঙ্গিদের হামলায় সেদিন এক পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছিলেন। এদিকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার তীরচর এলাকায় একটি চেকপোস্টে হাইওয়ে পুলিশ তল্লাশির জন্য একটি বাস থামালে সঙ্গে সঙ্গে দুজন বাস থেকে নেমে বোমা ফাটিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশ পাল্টা গুলি চালিয়ে ও ধাওয়া করে দুই জঙ্গিকে ধরে ফেলে। তারা জেএমবির সদস্য বলে জানা গেছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে জঙ্গিরা হারিয়ে যায়নি, বরং তারা পুলিশের ওপরও হামলা চালানোর মতো সাহস রাখে।

হরকাতুল জিহাদ বা হুজি সবচেয়ে পুরনো জঙ্গি সংগঠনগুলোর একটি। প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, এদের অনেক সদস্যের আফগানিস্তানে তালেবানদের সঙ্গে যুদ্ধ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশে ভয়াবহতম কিছু জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে এই হুজি। এর মধ্যে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা এবং রমনার বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। ২১ আগস্টে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলা মামলারও অন্যতম আসামি মুফতি হান্নান। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর অব্যাহত অভিযানের কারণে জঙ্গি তত্পরতায় কিছুটা ভাটা পড়েছে, এটা ঠিক। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্য যে জঙ্গিবাদ সহজে নির্মূল হবে না। বিশেষ করে যত দিন রাজনৈতিক উসকানি ও অর্থের মদদ বন্ধ করা না যাবে, তত দিন জঙ্গিবাদ নির্মূল হবে না, ওরা থেমে থেমে জ্বলে ওঠার চেষ্টা করবে।

অব্যাহত অভিযানের কারণে জঙ্গিরা ঘাপটি মেরে থাকার কৌশল নিয়ে থাকতে পারে। সুযোগের অপেক্ষায় থাকার এই সময়টিতে জঙ্গিরা জনবল বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে তাদের প্রধান টার্গেট অবশ্যই হবে তরুণ সমাজ। তাই জঙ্গিরা যাতে তরুণদের বিভ্রান্ত করতে না পারে এবং ভ্রান্ত মতাদর্শ প্রচার করতে না পারে সেদিকে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। পুলিশের অভিযান আরো জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও এ ব্যাপারে বিশেষ ভূমিকা পালন করতে হবে।


মন্তব্য