kalerkantho


রংপুরে ছাত্রলীগের তাণ্ডব

দোষীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করুন

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



ছাত্রলীগের অপকর্ম কোনোভাবেই যেন থামানো যাচ্ছে না। এরই মধ্যে আদালতে বিভিন্ন অভিযোগে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সাজা হয়েছে। তার পরও চাঁদাবাজি, লুটপাট ও খুনাখুনির মতো ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায়। অভিযোগ রয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদি হাসান মিরাজ এক ব্যবসায়ীর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় ছাত্রলীগকর্মীরা ব্যবসায়ীর দোকানে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদে একজোট হয়ে সড়ক অবরোধ করেন এবং থানায় মামলা করেন। মামলা করায় ছাত্রলীগকর্মীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে রামদা, লাঠিসোঁটা নিয়ে আবারও দোকানপাটে হামলা চালায়। তারা বেশ কয়েকটি দোকানে অগ্নিসংযোগও করে। এ সময় তাদের প্রতিরোধ করতে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও এগিয়ে আসে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ ধরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বারবারই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের পড়াশোনায় মন দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন। তাদের অবসর সময়ে মানুষের সেবা ও সমাজ উন্নয়নমূলক কাজে অংশ নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কিন্তু ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের কর্মকাণ্ড দেখলে মনে হয় না প্রধানমন্ত্রীর এসব উপদেশ-পরামর্শ তাদের কানে প্রবেশ করছে। আর তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ রেখেছে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনার পরপরই কেন্দ্রীয় কমিটি ওই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটির সব কার্যক্রম স্থগিত করেছে। পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। অপরাধের প্রমাণ পেলে হয়তো তাদের বহিষ্কারও করা হবে। কিন্তু এটুকুই কি যথেষ্ট? কেন্দ্রীয় কমিটিকে ছাত্রলীগের ভেতরে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। সারা দেশে যেখানেই এমন চাঁদাবাজ নেতাকর্মী ছাত্রলীগে রয়েছে, বড় অঘটন ঘটানোর আগেই তাদের দল থেকে বহিষ্কার করতে হবে। প্রয়োজনে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, এরা দলের কষ্টার্জিত সুনামও ক্ষুণ্ন করছে। রংপুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। কোনো প্রভাবশালী যেন তদন্ত বা বিচারপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে, তাও নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। শিক্ষার্থীরা এখানে আসে বিদ্যাচর্চা ও গবেষণার মাধ্যমে নিজেদের আরো উন্নত ও পরিশীলিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। চাঁদাবাজরা এখানে কী জন্য থাকবে? এরা থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যাচর্চার পরিবেশই শুধু ব্যাহত হবে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকেও এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।


মন্তব্য