kalerkantho


প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াক প্রতিটি পরিবার

৬ মার্চ, ২০১৭ ০০:০০



প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

কিশোর-তরুণদের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার খবর সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে স্থান পাচ্ছে বেশি। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কিশোর অপরাধের সংখ্যা বাড়ছে।

মাদক ব্যবহার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জঙ্গিবাদেও জড়িয়ে পড়ছে তরুণরা। বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের বিশেষ সম্মেলনে এদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী মায়েদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সন্তানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলে তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর এই আহ্বান অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। শিক্ষার শুরু পরিবার থেকে। যৌথ পরিবার প্রথা ভেঙে যাওয়ায় এখন অনেক পরিবারের ছেলেমেয়েরা একাকিত্বে ভোগে। আগের মতো সামাজিক বন্ধন নেই। মূল্যবোধের পরিবর্তন ঘটেছে। এ অবস্থায় পরিবারের অভিভাবকরা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সন্তানদের ওপর তার প্রভাব পড়বেই। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে, অপেক্ষাকৃত কমবয়সী ও বিত্তবান পরিবারের সন্তানরাই জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছে। বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, এদের বেশির ভাগই দেশের নামি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল। কোনো না কোনোভাবে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট হয়েছে তারা। এমনকি উচ্চ শিক্ষিত নারীদেরও দেখা গেছে জঙ্গিবাদে সম্পৃক্ত হতে।  

জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয়। বাংলাদেশ থেকে জঙ্গি-সন্ত্রাস ও মাদক নির্মূলে প্রতিটি পরিবারকে একযোগে কাজ করতে হবে। সরকারের পক্ষ থেকে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস মোকাবেলায় সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এখন প্রতিটি পরিবারে মায়েদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মায়েদের বিশেষ ভূমিকা ছিল। অনেক মা তাঁদের সন্তানদের মুক্তিযুদ্ধে পাঠিয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন অনেক নারী। এখন জঙ্গি, মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলেও মায়েদের নতুন করে ভূমিকা রাখতে হবে। পরিবারে মায়েদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। সন্তানের লেখাপড়া ও মেলামেশার বিষয়ে মায়েদের আরো সচেতন হতে হবে। খোঁজখবর রাখতে হবে। প্রতিটি পরিবারকে উঠতি বয়সের সন্তানদের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে কিশোররা অপরাধ জগতের দিকে পা বাড়াবে না। সামাজিক অনুশাসন এখন আর আগের মতো কার্যকর নয়। কাজেই পারিবারিক অনুশাসন ও পরিবারের সদস্যদের সঠিক দায়িত্ব পালন করে সন্তানদের আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে। নামিদামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি করিয়ে দায়িত্ব শেষ করা নয়। সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুর মতো মিশে তাদের চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে জানতে হবে।

কোনো সন্তান যেন অপরাধের পথে পা না বাড়ায় সে জন্য কুশলী গাইডের মতো তাকে পরিচালনা করতে হবে। প্রতিটি পরিবারে মায়েরা ভূমিকা নিলে কোনো সন্তান অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত হবে না। প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশের প্রতিটি পরিবারে মায়েরা সন্তানদের যোগ্য করে গড়ে তোলার দায়িত্ব নিলে জঙ্গিবাদের শিকড় উৎপাটন কঠিন হবে না।


মন্তব্য